মায়েদের গায়ে হাত দিলে বসে থাকব না: জামায়াতের আমির

জামায়াতে ইসলামীর মহিলা সমাবেশে বক্তব্য দেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। মনিপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, মিরপুর, ঢাকা; ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী–সমর্থকদের ওপর দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটছে অভিযোগ করে দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেন, যাঁরা মায়ের গায়ে হাত বাড়িয়েছেন, অপমান করেছেন; ক্ষমা চান। আল্লাহ মাফ করে দেবেন।

অন্যথায় জামায়াত নেতা–কর্মীরা বসে থাকবে না হুঁশিয়ারি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের জীবনের চাইতে আমাদের মায়েদের ইজ্জতের মূল্য আমাদের কাছে অনেক বেশি। আর যদি কেউ হাত বাড়ানোর চেষ্টা করে, ইনশা আল্লাহ আমরা গালে হাত দিয়ে বসে থাকব না।’

আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতের মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। মণিপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘মায়ের সন্তানেরা আমরা গর্জে উঠব। যেকোনো মূল্যে আমরা আমাদের মায়েদের মর্যাদা ইনশা আল্লাহ রক্ষা করব। অপশন দুইটা—একটা হচ্ছে নিজে পরিবর্তন হয়ে ভালো হয়ে যাওয়া, মাকে সম্মান করা। আর না হলে পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য সমস্ত দায় নিতে প্রস্তুত থাকা।’

এ সময় শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা মাতৃতান্ত্রিকতাও চাই না, পিতৃতান্ত্রিকতাও চাই না। আমরা একটা মানবিক সমাজ চাই। উভয়ের সমন্বয়ে আমরা একটা মানবিক সমাজ চাই। আমরা কোনো ক্লেশ, কোনো বিভাজন চাই না—ধর্মেও চাই না, বর্ণে চাই না। আমরা কোনো জেন্ডারেও বৈষম্য চাই না।’

ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘১২ তারিখে (ফেব্রুয়ারি) দুটি ভোট। একটা হচ্ছে “হ্যাঁ” ভোট (গণভোট)। “হ্যাঁ” মানে হচ্ছে বাংলাদেশ জিতে যাওয়া, “হ্যাঁ” মানে আজাদি। “হ্যাঁ” মানে ফ্যাসিবাদ যন্ত্রণা আর ফিরে না আসা। ইনশা আল্লাহ আমাদের প্রথম ভোটটি হবে “হ্যাঁ”।’

দ্বিতীয় ভোট (দলের প্রতীকে) ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দূর অতীতে আমাদের যাওয়ার দরকার নাই। যেদিন থেকে আল্লাহ মুক্তির ব্যবস্থা করে দিলেন ৫ আগস্ট ২০২৪ সাল, সেদিন থেকে কার আমলনামা কেমন, কার দৃষ্টিভঙ্গি, চলাফেরা, কাজকর্ম, আচার-আচরণ কেমন, সেটা আপনাদের সবার সামনে পরিষ্কার। এখানে যাদের সুনীতির ওপর পাব, যাদের ওপর আস্থা রাখতে পারব, ইনশা আল্লাহ ১২ তারিখের ভোট তাদের পক্ষে হবে।’