অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে করভিত্তি বাড়ানো হয়েছে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী
মুদিদোকানে করারোপের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) বলেছেন, অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে করের ভিত্তি (ট্যাক্স বেস) বাড়ানো হয়েছে।
আজ রোববার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, করভিত্তি বাড়ানো হয়েছে। মুদিদোকানদার–কাঁচাবাজার পর্যন্ত যাবে কি না, সেটা নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উদ্বেগ প্রকাশ করতে হবে, জনগণকে স্বস্তিও দিতে হবে। কিন্তু অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে এই করভিত্তি বাড়ানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যাতে দক্ষতার সঙ্গে কর আদায় করা যায়, সে জন্য ‘ফ্ল্যাট রেটে’ সামর্থ্য অনুযায়ী এটা নির্ধারণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আদায় কার্যক্রমকে আলাদা করা হবে। এ লক্ষ্যে আমলাতন্ত্রের বাইরে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি স্বাধীন নীতিনির্ধারণী সংস্থা গঠন করা হবে। কর ফাঁকি রোধে কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার আগামী অর্থবছরে নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা করেন।
জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও কর সংস্কার, অটোমেশন ও কর ফাঁকি রোধে কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বাজেটের আকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৩ শতাংশ, যেখানে প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন দেশে সাধারণত বাজেটের আকার জিডিপির ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশ হয়ে থাকে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যা এবং দেশকে আমরা যে অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই, সেই বিবেচনায় এটি আসলে ছোট একটি বাজেট।’
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, প্রস্তাবিত বাজেট সংকোচনমূলক নয়, বরং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি প্রসারণশীল বাজেট, যা উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেছে। সরকার একটি ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতি’ উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে এবং পুনর্গঠন ও দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই বাজেট প্রণয়ন করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে কর ফাঁকি, কর জালিয়াতি ও অতিরিক্ত কর রেয়াতের কারণে সরকার প্রয়োজনীয় রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। এসব অনিয়ম রোধে কর প্রশাসনে অটোমেশন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেন তিনি। আজ এনবিআরসহ আরও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে অটোমেশন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।