অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোয় থাকবে বডি–ওর্ন ক্যামেরা: প্রেস সচিব

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের প্রস্তুতির তথ্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমছবি: পিআইডি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোয় ২৫ হাজার ৫০০টি বডি–ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এসব ক্যামেরা ইতিমধ্যে সরবরাহ ও ব্যবহার উপযোগী হয়েছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখের মতো সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন–সংক্রান্ত গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে ওই বৈঠকের আলোকে নির্বাচনের প্রস্তুতির তথ্য তুলে ধরতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

প্রেস সচিব বলেন, এবার এক লাখের বেশি সেনাবাহিনীর সদস্য থাকবেন। আর নৌবাহিনীর পাঁচ হাজারের বেশি ও বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জনের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া পুলিশের প্রায় দেড় লাখ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার সদস্য থাকবেন। এ ছাড়া থাকবেন বিজিবি, র‍্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এ ছাড়া প্রায় ৫০০ ড্রোন ও ৫০টির মতো ডগ স্কোয়াড থাকবে বলেও জানান প্রেস সচিব।

সব আসনেই একই দিনে নির্বাচন হবে জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, সভায় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ৩০০ আসনেই একই দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাবনা–১ ও পাবনা–২ আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই দুটি আসনেও একই সঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ বুধবার প্রতীক বরাদ্দের তারিখ।

প্রেস সচিব বলেন, সারা দেশে ৩০০টি নির্বাচনী আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ও ভোটিং বুথ ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৯৯টি। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি।

শফিকুল আলম বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩০০টি আসনে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের আগে চার দিন, ভোটের দিন ও ভোটের পর দুই দিন, মোট সাত দিনের জন্য ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ন্যূনতম ১৫ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সাধারণ ভোটকেন্দ্রে এই সংখ্যা ১৫ থেকে ১৭ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ থেকে ১৯ জন পর্যন্ত হতে পারে। প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।