ভিয়েতনামের জাতীয় পরিষদ সভাপতির সঙ্গে সিপিবি-ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাদের বৈঠক

ভিয়েতনামের জাতীয় পরিষদের সভাপতি ভু অং ডিন হিউয়ের নেতৃত্বে ঢাকা সফররত প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আজ বৈঠক করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় নেতারা
ছবি: সংগৃহীত

ভিয়েতনামের জাতীয় পরিষদের সভাপতি ভু অং ডিন হিউয়ের নেতৃত্বে ঢাকা সফররত প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় নেতারা। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা।

সিপিবি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ভু অং ডিন হিউ বলেন, ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব রয়েছে। এটি ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গেও ভিয়েতনামের মানুষের গভীর ও দীর্ঘ বন্ধুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও উচ্চপর্যায়ে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে।

রোহিঙ্গা সমস্যাসহ এশিয়ায় নানা সমস্যা সমাধানে ভিয়েতনামের সক্রিয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করে সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নানা বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ, বিশেষ করে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর মদদে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল (ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি) আজ সবার জন্য এক বিরাট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিপিবির প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন (প্রিন্স), সহসাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এন রাশেদা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এম এম আকাশ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান হাসান তারিক চৌধুরী।

‘বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন সব সময় আমাদের সাহস জুগিয়েছে’

ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় ভু অং ডিন হিউ বলেন, ‘ভিয়েতনামের মানুষের সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন সব সময়েই আমাদের সাহস জুগিয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেও ভিয়েতনামের মানুষের সমর্থন ছিল অটুট।’

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট পার্টির ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের উল্লেখ করে ভু অং ডিন হিউ বলেন, বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের লড়াই এবং জনগণের সব প্রগতিশীল আন্দোলনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভূমিকার প্রতি ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট পার্টির সমর্থন রয়েছে।

বৈঠকে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ভিয়েতনাম মানুষের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই এবং এ দেশের মানুষ ও প্রগতিশীল দলগুলোর লড়াই ছিল পরিপূরক। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সে লড়াইয়ের অংশ। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান বিশ্বে পুঁজিবাদের নয়া–উদারনীতিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুই দেশের মানুষ ও দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দল একসঙ্গে সংগ্রাম করবে।