বাজারে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা শোনা যাচ্ছে: ইসলামী আন্দোলন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংবাদ সম্মেলন। পুরানা পল্টন, ঢাকা। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচন ঘিরে শেষ সময়ে এসে ‘নির্বাচনের বাজারে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা শোনা যাচ্ছে’ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ আশঙ্কার কথা জানান ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, এমন কোনো কলঙ্কিত ঘটনা যাতে ঘটতে না পারে, তা নিশ্চিতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ রোধে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।

নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে টাকার ছড়াছড়ি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন গাজী আতাউর রহমান।

এ ছাড়া বিভিন্ন আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর এজেন্টদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘হুমকি দেওয়া ও হামলার মতো কাজ পুরোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিষয়গুলো স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলে কোথাও কাজ হচ্ছে, কোথাও হচ্ছে না।’

গাজী আতাউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘বিভিন্ন আসনে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীদের হামলায় ইসলামী আন্দোলনের অন্তত ১০ জন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের অনেকে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ ছাড়া প্রায় ৫০ জন সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন সব নেতা–কর্মীকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বলেও জানান গাজী আতাউর রহমান।

এ ছাড়া যে ৪২ আসনে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দিতে পারেনি, সেগুলোতে নির্দিষ্ট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য নেতা–কর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান গাজী আতাউর রহমান।

গাজী আতাউর রহমান ভোটারদের হাতপাখায় ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। সারা দেশে বিভিন্ন জায়গায় একটি পক্ষ ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এই নেতা।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন আসনে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী বসে গেছে বা অন্য প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে। কাউকে সমর্থন দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমাদের প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকবে। আমরা চাই, দেশ পুনর্গঠিত হোক। এ ক্ষেত্রে আমরাও ভূমিকা রাখতে চাই।’

নির্বাচনে ভোটের ফলাফল যেমনই হোক, তা মেনে নেবেন বলেও জানান এই নেতা। বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রের নির্বাচন বা কোনো পাতানো নির্বাচন যাতে না হয়। এমনটি হলে সেটা বিগত সময়ের থেকেও বেশি খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক মাহবুবুর রহমান, দলটির নেতা আফতাব উদ্দিন প্রমুখ।