স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই: ইশরাক হোসেন
ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঢাকা-১৭ আসনের এক প্রার্থীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংঘাতে জড়াতে চাইলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
আজ রোববার বিকেলে ঢাকা আইনজীবী সমিতির মো. সানাউল্লাহ মিলনায়তনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইশরাক হোসেন এ কথা বলেন।
প্রার্থীর নাম উল্লেখ না করে ইশরাক হোসেন বলেন, তাঁর একটি বক্তব্য অত্যন্ত প্রচারিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘ঢাকা শহরের সব প্রার্থীকে সাইজ করে দেবেন। সেই প্রার্থী যদি বলতেন ঢাকা শহরের সব প্রার্থীকে হারিয়ে দেবেন বা পরাজিত করে দেবেন, তাহলে কোনো সমস্যা ছিল না। সাইজ শব্দটার অর্থ কী? তাঁরা কি তাহলে ভায়োলেন্সিং সাইড (সহিংসতার উপায়) খুঁজছেন? তাহলে আমরা তো আর ভেসে আসিনি। আন্দোলন–সংগ্রাম আমরাও করেছি...এখন যদি তাঁরা আমাদের সাথে সে ধরনের একটা খেলা শুরু করতে চাযন বা সংঘাতে জড়াতে চাযন, তাহলে আমরা সে বিষয়ে কোনো ছাড় দেব না।’
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের উদারতার কারণেই ওই দল নিবন্ধন ফিরে পেয়েছিল উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আমরা একসাথে ছিলাম। আমরা উদারতা দেখিয়েছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদারতার ফলেই তো তারা নিবন্ধন ফিরে পেয়েছিল, সেটার প্রতি তারা সম্মান জানাচ্ছে না।’
বিএনপির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমাদের যে বিষয়টি নিয়ে কনসার্নড হওয়া দরকার, সেটি হচ্ছে আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে এবং আমাদের যারা প্রার্থী রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, সংঘবদ্ধভাবে।’
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত বিক্ষোভ-আন্দোলনের সময় রাজপথে প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে সেভাবে দেখা যায়নি মন্তব্য করে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমাদের যারা এখন প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল হয়েছে, যেহেতু এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ নেই, তাঁরা দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। দীর্ঘদিন আমাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে রাজপথে জোরালো ভূমিকা ছিল। কিন্তু আজকে যাঁরা আমাদের প্রতিপক্ষ, তাঁদের কিন্তু সেভাবে দেখিনি। ভোরের আলো ফোটার আগে তাঁরা একটি মিছিল করে দৌড়ে ঘরে ফিরে যেতেন। ২০১৪ সালের পর তাঁদের রাজপথে আমরা দেখিনি। এটা হলো আমার অভিজ্ঞতা।’
ঢাকা জাতীয়তাবাদী যুব আইনজীবী সমিতির আয়োজনে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহসীন মিয়া। সংগঠনটির সভাপতি আক্তার হোসেন সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর মো. ইকবাল হোসেন ও ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম। এ ছাড়া ঢাকা বারের সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলম ও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকীও বক্তব্য দেন। বক্তারা ইশরাক হোসেনের পক্ষে আইনজীবীদের কাজ করার আহ্বান জানান।