চান্দাবাজি করে দেশ চালাতে চাইলে পরিণতি ভেবে দেখতে বললেন জামায়াতের ইজ্জত উল্লাহ
চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে দেশ পরিচালনার চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি হতে পারে বলে জাতীয় সংসদে সতর্ক করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ কারও খারার মাছ না। গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ আওয়ামী লীগকে দেশছাড়া করেছে। বিএনপি–জামায়াতকে ভাবতে হবে, জনগণকে যদি সুশাসন দিতে না পারি, আমরা চান্দাবাজি, ধান্দাবাজি, টেন্ডারবাজি করে যদি দেশ চালাতে চাই, আমাদেরও পরিণতি কী হবে, সেটা ভেবে দেখা দরকার। তাদের তো যাওয়ার জায়গা আছে, বিএনপি–জামায়াতের কিন্তু যাওয়ার জায়গা নেই।’
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ইজ্জত উল্লাহ ঋণনির্ভর বাজেট, ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এবং সরকার–বিরোধী দলের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
ইজ্জত উল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ ১৫ বছরে বিদেশি ঋণ ৩০ লাখ কোটি টাকায় নিয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১৫ বছরে এই ঋণ ৬০ লাখ কোটিতে পৌঁছাবে। একসময় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেই রাষ্ট্রকে হিমশিম খেতে হবে। তখন দেশ পরিচালনা ও নতুন ঋণের অর্থের সংস্থান বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
জামায়াতের এই সদস্য বলেন, ২০২৬ সালে সরকারের প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৪ কোটি টাকায়। এ অবস্থায় ব্যাংকগুলো কীভাবে সরকারকে নতুন ঋণ দেবে, সেই প্রশ্ন তোলে তিনি বলেন, ‘ব্যাংক যদি ঋণ দিতে না পারে, তাহলে টাকা ছাপানো ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।’
কয়েক মাস আগে সংবাদমাধ্যমে সরকার ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দিতে নতুন টাকা ছাপিয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছিল উল্লেখ করে ইজ্জত উল্লাহ বলেন, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে এবং অর্থনীতি চাপের মুখে পড়বে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা ঋণ করে ঘি খাওয়ার অবস্থায় চলে যাচ্ছি। ঋণ করে তিন লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট করছি। এটা ভবিষ্যতে বড় সংকট তৈরি করবে।’
গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সরকার ও বিরোধী দলকে প্রতিপক্ষ নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার অংশীদার হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, একটি বাজেট পেশ হওয়ার পর সেটি নিয়ে বিশ্লেষণ ও সমালোচনা হওয়াই স্বাভাবিক। বিরোধী দলের দায়িত্ব শুধু সরকারের প্রশংসা করা নয়, বরং গঠনমূলক মতামতের মাধ্যমে আরও কার্যকর বাজেট প্রণয়নে ভূমিকা রাখা।
বিদ্যুৎ–সংকটের মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য প্রস্তাবিত বাজেট সামনে রেখে দুই পক্ষের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয় কিছুটা কমিয়ে রাজস্ব আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নিজ নির্বাচনী এলাকা সাতক্ষীরার উন্নয়ন প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে ধরেন ইজ্জত উল্লাহ। তিনি বলেন, চলতি বাজেটে সাতক্ষীরার রেললাইন প্রকল্পের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। অর্থমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি এ বছরই প্রকল্পটির কাজ শুরুর দাবি জানান।