মানবতাবিরোধী অপরাধে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ অভিযুক্ত

আবুল হাসানাত আবদুল্লাহফাইল ছবি

মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ।

এই মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনিসহ চারজনের বিরুদ্ধে আজ বুধবার অভিযোগ গঠন হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ২০১৫ সালে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে এখন। সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর জন্য আগামী ১৭ জুন দিন ধার্য হয়েছে।

হাসানাত আবদুল্লাহ জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই। তিনি বরিশালের আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী উপজেলা এলাকা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসনের সদস্য ছিলেন একাধিকবার।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ এই মামলায় অভিযোগ গঠন হয়। এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার চার আসামির মধ্যে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক। বাকি দুই আসামি বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। অভিযোগ গঠনের সময় তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পড়ে শোনান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। এরপর বিচারপতি নজরুল ইসলাম উপস্থিত দুই আসামির কাছে জানতে চান, তাঁরা দোষ স্বীকার করছেন কিনা? জবাবে মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন দুজনই বলেন, তাঁরা নির্দোষ।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার দুজন হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে হাসানাত আবদুল্লাহ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই দুজনকে হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করেন। হাসানাত আবদুল্লাহ ও এহসানউল্লাহ তাঁদের অধস্তন পুলিশ সদস্যদের দিয়ে ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী–গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করেন।