ময়লার ভাগাড়ের পাশে বসে ইশতেহার দিলেন ঢাকা-৪–এর প্রার্থী মিজানুর রহমান
ময়লার ভাগাড়ের পাশে বসে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছেন ঢাকা–৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান। রাজধানীর অপরিকল্পিত উন্নয়নের শিকার এই এলাকাটি কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রয়েছে—এমন দাবি করে প্রতীকী এই পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার দুপুরে জুরাইন-দয়াগঞ্জ রাস্তার পাশে মুন্সিবাড়ী মোড়ের ময়লার ভাগাড়ের পাশে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মিজানুর রহমান তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার দেন বলে তাঁর নির্বাচন সমন্বয় দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শ্যামপুর, কদমতলী, যাত্রাবাড়ীর আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা–৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মিজানুর রহমান, যিনি এই এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সামনে আনার জন্য আগে থেকেই রয়েছেন আলোচনায়। দূষিত পানি নিয়ে প্রতিবাদ করার পর তাঁর নামের আগে ‘ওয়াসা মিজান’ শব্দটি যোগ হয়েছিল একসময়।
ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মিজানুর রহমানের নির্বাচনী ইশতেহারে মহল্লা সংস্কৃতি ফিরিয়ে এনে গলির ভুক্তভোগী জনগণকে দিয়ে গলি সমাজ গঠনের মাধ্যমে গলির নাগরিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধানে তদারকি ও জবাদিহির কাঠামো গড়ে তোলা; সংসদ সদস্যের কাছে পৌঁছানো ও তাঁর জবাবদিহির জন্য ‘এমপি হটলাইন ও ওয়েবসাইট’ চালু; জলাবদ্ধতা নিরসনে ক্রমাগত রাস্তা উঁচু করে মানুষের বাসাবাড়ি দোকানপাটকে বৃষ্টির পানিতে ডোবানোর ‘ভ্রান্ত’ উন্নয়নের বদলে সহজ, টেকসই পদ্ধতি ও সুলভে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
তিন মাসের মধ্যে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ এবং রাস্তা সুরক্ষা চার্টার (ঘোষণাপত্র) প্রকাশের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। ইশতেহারে বলা হয়, জনগণের সম্মতি নিয়ে এই এলাকার জন্য রাস্তা সুরক্ষা চার্টার প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করা হবে। সেই চার্টারে এই নিয়ম থাকবে যে এলাকার যেকোনো রাস্তা খোঁড়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গলি সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে ৭ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়ে এসে কাজ শেষ করে রাস্তা যেমন ছিল তেমন করে রেখে যেতে হবে।
পানির সংকট নিয়ে স্থানীয় বিশেষ সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বিলের বিপরীতে সেবা দিতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা ওয়াসাকে বাধ্য করার কথাও ইশতেহারে রেখেছেন মিজানুর রহমান। গ্যাস বৈষম্য বন্ধ করতে তিতাসকে বাধ্য করা এবং এলপিজি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ভ্রাম্যমাণ সিলিন্ডার বিক্রয় ট্রাক আনার মাধ্যমে এলাকায় নায্যমূল্যে সিলিন্ডার গ্যাস দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
এ ছাড়া প্রতিটি মহল্লার জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক ওএমএস বা টিসিবির সেবা এবং হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত এবং জটিলতাহীনভাবে কার্ড ও পণ্য প্রাপ্তিসেবা নিশ্চিত করা; পচনশীল (জৈব বর্জ্য), অপচনশীল (রিসাইকেল করা যায় এমন বর্জ্য) ও বিপজ্জনক বর্জ্য—এই তিন ক্যাটাগরিতে বর্জ্য সংগ্রহ চালু করা; জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে করে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার খেলার মাঠগুলো এবং ঘোষিত সরকারি স্পর্শকাতর স্থাপনা ছাড়া বাকি সব সরকারি স্থাপনার উন্মুক্ত পরিসরকে বিকেল বেলা ও ছুটির দিনে খেলাধুলা ও অবসর কাটানোর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে একই ইশতেহারে।
মিজানুর সংসদ সদস্য হলে রেললাইনের দুই পাশে দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন। ময়লা পোড়ানো বন্ধ এবং দূষণকারী কারখানার তালিকা তৈরি ও নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়া; শব্দদূষণ বন্ধ করা; ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এলাকার প্রতিটি বাসাবাড়িতে একজন করে ডেঙ্গুযোদ্ধা তৈরি করা; নিয়মিত প্রত্যেক ওয়ার্ডে মাসে একটি ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করা; ঝুঁকিপূর্ণ অনিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন মেরামতে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে, নারীদের একটা নারী নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে কোনো নারীর ওপর হামলা বা হয়রানি হলে গলি বা এলাকার নারীরা একসঙ্গে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিহত করতে পারেন। পাশাপাশি হকার, টংদোকানদারদের উচ্ছেদ না করে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থায় আনা এবং জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে সংসদে দেশবিরোধী, প্রাণপ্রকৃতিবিরোধী প্রকল্প বন্ধ করতে লড়াই করা, বাজেটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, গোপন চুক্তির বিরোধিতা করার ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।