বিদেশি কূটনীতিকদের মন্তব্যে ইসি কোনো চাপে আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আনিছুর রহমান বলেন, তাঁদের ওপর কোনো চাপ নেই। সরকার বা বিরোধী দল বা অন্য কেউ ইসিকে কিছু বলেনি।

আনিছুর রহমান বলেন, ‘বিদেশিদের ব্যক্তিগত কথা, না তাঁদের দেশের কথা, সেটাও পরিষ্কার হওয়া উচিত বলে মনে করি। ব্যক্তি হিসেবে অনেক কথা বলতে পারি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনার হিসেবে অনেক কথা বলতে পারব না। ব্যক্তিগত একটা বিষয় আছে। আরেকটি হলো, তাঁর দেশ। যাঁরা বলেন, তাঁদের আরও ভেবেচিন্তে কথাবার্তা বলা মনে হয় ঠিক হবে। আমি এ বিষয়ে আর না বলাই ভালো।’

কূটনৈতিক বিষয়গুলো জেনেভা কনভেনশন (প্রকৃতপক্ষে ভিয়েনা কনভেনশন) অনুযায়ী হয় উল্লেখ করে আনিছুর রহমান বলেন, প্রতিটি দেশেরই একটি স্বকীয়তা আছে। কনভেনশনের মধ্যে কূটনীতিকদের থাকা ভালো। তাঁরা বিবেচনা করে দেখতে পারেন, তাঁরা এর মধ্যে কতটুকু আছেন।

আরেক প্রশ্নের জবাবে আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমার জানা নেই, পৃথিবীর কারও ভোট নিয়ে (বিদেশিরা) মাথা ঘামায় কি না বা কেউ বলে কি না বা পরামর্শ দেয় কি না। তাঁরা মন্তব্য করেন এ জন্য, সাহস নিশ্চয়ই কেউ করে দিয়েছেন। না হলে সাহস পান কেন? আমরা তো মনে করি, প্রত্যেকেরই বিচরণের ক্ষেত্রের সীমাবদ্ধতা আছে।’

এদিকে গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে আনিছুর রহমান বলেন, উপনির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে তদন্ত কমিটির দুটি প্রতিবেদনই ইসি হাতে পেয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে আনিছুর রহমান বলেন, অপরাধী বিশালসংখ্যক, এটা সত্য। তিরস্কার করাটাও শাস্তি। কারও ক্ষেত্রে হয়তো সেটা হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে দণ্ড হতে পারে।

ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে ইসি মামলা করতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে বলতে হবে। প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। কারও ক্ষেত্রে বিভাগীয় ব্যবস্থা হতে পারে। কারও শোকজ হতে পারে।

ওই উপনির্বাচনে প্রার্থীদের এজেন্টের অনিয়ম ইসি দেখেছে উল্লেখ করে আনিছুর রহমান বলেন, ‘বুথে ঢুকেছে, কোথাও কোথাও বাটন টিপে দিয়েছে। এগুলো দেখেছি।

এগুলো তো একেবারেই অসত্য নয়। আর আইনে প্রার্থীদের লোক করা মানে তো প্রার্থীর করা। প্রার্থীর এজেন্ট মানেই প্রার্থী। একই তো কথা। প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টের অপরাধ প্রার্থীর ওপর বর্তায়। এখানে একেবারে ফেলে দেওয়ার কিছু নেই। আমরা এটা দেখব।’