বাবা ছিলেন জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা, ছেলে দীপেন দেওয়ান তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায়

রাঙামাটি সংসদীয় আসনে বিজয়ী দীপেন দেওয়ানছবি: দীপেন দেওয়ানের ফেসবুক পেজ

প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রী হলেন দীপেন দেওয়ান। তাঁর বাবা সুবিমল দেওয়ান রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি নতুন সরকার গঠন করে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে শপথ নেন। পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দীপেন দেওয়ান পেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

৬৩ বছর বয়সী দীপেন দেওয়ান এবারের নির্বাচনে পার্বত্য রাঙ্গামাটি আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে সর্বাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে তাঁর ভোটের ব্যবধান ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার ৩২২টি।

আরও পড়ুন

দীপেন দেওয়ানের জন্ম ১৯৬৩ সালে সুবিমল দেওয়ান ও মুহিনি দেওয়ানের ঘরে, রাঙ্গামাটি পৌরসভার কলেজগেট এলাকার মন্ত্রিপাড়ায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। এরপর তিনি জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেন। ২০০৫ সালে যুগ্ম জেলা জজের চাকরি ছেড়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ২০১০ সালে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সহসম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

পার্বত্যাঞ্চলের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পার্বত্য চুক্তি নিয়ে কীভাবে এগোবেন তিনি। এই চুক্তির ফসল পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ দুই দশকের সহিংসতার পর পাহাড়ে আপাতশান্তি এসেছিল ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বরের পার্বত্য চুক্তির পর। কিন্তু পুরোপুরি শান্তি অধরাই থেকে গেছে। এখনো সহিংসতায় রক্ত ঝরছে পাহাড়ে। ২০২৪ এবং ২০২৫ এর সেপ্টেম্বর মাসে দুইবার সহিংসতায় অন্তত ৬ জনের প্রাণহানি হয়। পার্বত্য চুক্তির পর এই মাত্রায় সহিংসতা আর দেখেনি পাহাড়।

পার্বত্য চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অনেক ধারাই এখনো পূরণ হয়নি বলে অসন্তোষ রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ওই চুক্তি সম্পাদনকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিতে (জেএসএস)।

বিএনপি তাদের এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছে, তারা পার্বত্য চুক্তির পুনর্মূল্যায়ন করবে। এর ধরন কেমন হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আবার সেই উদ্যোগ পাহাড়ের চুক্তি সম্পাদনকারী জেএসএস কতটা গ্রহণ করবে, সেই প্রশ্নও রয়ে গেছে। পাহাড়ে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের নতুন কোনো উদ্যোগ জটিলতা বাড়াবে কি না, সেই প্রশ্নও থাকছে।

নির্বাচনী হলফনামায় দীপেন দেওয়ান তাঁর বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের কথা উল্লেখ করেন তিনি। স্থাবর সম্পদের অর্জন মূল্য দেখিয়েছেন ৫৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।