পিআরের দাবি আদায় করেই নির্বাচনে যাব: জামায়াত সেক্রেটারি
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, তাঁর দল সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) দাবি আদায় করেই নির্বাচনে যাবে। তিনি পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনেরও দাবি জানান।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা ইলেকশনে যাব অবশ্যই। পিআরের দাবি পূর্ণ করেই আমরা ইলেকশনে যাব। এই দাবি চলতে থাকবে। তারপরে কী হবে, তারপরে সেটা সে সময়ে বলব। এখন কথা, আমাদের দাবি মানতে হবে, ইলেকশন আমাদের চাই। আর যদি সবাইকে বাদ রেখে একা কোনো ইলেকশন করতে চান, বাংলাদেশের জনগণ এখন শিক্ষিত হয়েছে। এটা আর হবে না।’
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফার্মগেটে কেআইবি থ্রিডি মিলনায়তনে এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল। ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও নির্বাচন’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে অ্যাগ্রিকালচারাল ফোরাম অব বাংলাদেশ (এএফবি)।
পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনেরও দাবি জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, সেই গণভোটে যদি বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগণ পিআরের বিপক্ষে যায়, তাহলে তারা (জামায়াত) পিআর চাইবে না। কিন্তু অধিকাংশ জনগণ যদি পিআর চায়, তাহলে সব দলকে পিআর মানতে হবে।
মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে সন্দেহের দানা বেঁধেছে উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, আদৌও নির্বাচন হবে কি না, হলে কীভাবে হবে, কোন কোন দল নির্বাচনে অংশ নেবে—এমন বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন মহলে এখন আলোচনা হচ্ছে।
গত ৫ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক ঘোষিত জুলাই ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের ইতিহাসের অনেক তথ্য এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মনে করেন জামায়াত সেক্রেটারি। তিনি জুলাই ঘোষণাপত্রকে সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশের দাবি জানান।
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে রূপরেখা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। গোলাম পরওয়ার বলেন, তাঁরা গত রাতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ড্রাফট রূপরেখা সরকারকে দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী অন্তর্বর্তী সরকারকে যেকোনো প্রকারের সহযোগিতা করতে প্রস্তত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই একটি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সংস্কারের সব প্রস্তাব মুছে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘যাওয়ার আগেই যদি মুছে দেন, তো গেলে কী করবেন।’ বক্তব্যে সংসদ নির্বাচনের আগেই জুলাই ঘোষণাপত্রের সংশোধন এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান জামায়াত সেক্রেটারি।
জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, ‘দাবি না মানলে কী হবে, সেটা আমার চেয়ে আপনারা ভালো জানেন। বাংলাদেশে ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতি চায়। সুতরাং বিদ্যমান পদ্ধতিতে নির্বাচন করে আমরা আবারও একটি ফ্যাসিস্ট সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি না।’
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. হাসান নাসির বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবার এক বছরের বেশি সময় ধরে সেনাবাহিনীকে মেজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মাঠে রাখা হয়েছে। কিন্তু গত স্বৈরাচারের আমলের দুর্নীতি বা গুম খুনের সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাই আমাদের বুঝতে হবে, সমস্যা আসলে কোথায়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহা. ইয়ামিন হোসেন। তিনি বলেন, পিআরের মাধ্যমে দেশের ছোট রাজনৈতিক দলগুলোও জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি সেক্টরভিত্তিক বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।
এএফবির সভাপতি এ টি এম মাহবুব ই ইলাহীর সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক ফখরুল ইসলাম এবং এএফবির নেতারা।