ঢাকা–১৪ আসন
‘ভোট কিন্তু একটা অন্য রকম বিষয়’
এই আসনে প্রার্থী ১২ জন। এখানে ভোটার সাড়ে চার লাখের বেশি।
কে, কাকে ভোট দেবেন—সেটা অন্য রকম ‘একটি বিষয়’ বলেই মনে করেন ঢাকা-১৪ আসনে এলডিপির প্রার্থী মো. সোহেল রানা। ভোট নিয়ে এই প্রার্থীর পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, ‘ভোট কিন্তু একটা অন্য রকম বিষয়, দেখা যাচ্ছে আপনি-আমি একসাথে চলছি, খাচ্ছি, একসাথে ঘুমাচ্ছি কিন্তু ভোটটা যে আপনি কখন, কাকে দিবেন—এই সিচুয়েশন (পরিস্থিতি) ভোটের পরে বলা যাবে।’
ছাতা প্রতীকে নির্বাচন করা এই প্রার্থী নিজের ব্যক্তিগত তহবিল ও দলের সহায়তা নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাওয়ার কথা প্রথম আলোকে বলেছেন। তবে গত সোমবার ও মঙ্গলবার ঢাকা–১৪ সংসদীয় আসনের বেশির ভাগ এলাকা ঘুরেও ছাতা প্রতীকের ব্যানার–ফেস্টুন–বিলবোর্ড চোখে পড়েনি। এ প্রসঙ্গে সোহেল রানা বলেন, ‘আমি একজন নতুন প্রার্থী এবং দলও...বড় বড় দল আছে, তাদের মতো অর্থনৈতিক সুবিধা বা আমাকে কেউ সহযোগিতা করবে, সে রকম কোনো সুযোগ নেই।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের একজন হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. আবু ইউসুফ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচন ভালো হলে, নির্বাচন সঠিক হলে—জেতার সম্ভাবনা আছে।’
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এই আসনের আরেক প্রার্থী মো. হেলাল উদ্দীনও। লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করা জাতীয় পার্টির এই প্রার্থী প্রথম আলোকে বলেন, ‘জয়ের বিষয়ে সবাই তো ভালো ফিডব্যাক দিচ্ছে।’
লাঙ্গল প্রতীকের ব্যানার-ফেস্টুন এলাকায় নেই কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে এই প্রার্থী বলেন, কিছু ব্যানার লাগানোর পর তা প্রতিপক্ষের লোকজন খুলে নিয়ে গেছে।
রাজধানীর মিরপুর, শাহ আলী ও দারুস সালাম এলাকা নিয়ে ঢাকা-১৪ আসন। এখানে ভোটার সাড়ে চার লাখের বেশি। এই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সানজিদা ইসলাম (তুলি)। গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’–এর সংগঠক তিনি। অন্যদিকে গুমের শিকার হওয়া মীর আহমাদ বিন কাসেম এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। নির্বাচনী এলাকার প্রায় সর্বত্র এই দুই প্রার্থীর ব্যানার–ফেস্টুন রয়েছে।
বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে এই আসনে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক। তবে তিনি নিজেকে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে মানতে নারাজ। ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করা সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘জনগণের সমর্থনের কারণেই আমি নির্বাচন করছি।’
ঢাকা–১৪ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন সিপিবির রিয়াজ উদ্দিন (কাস্তে প্রতীক), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. ওসমান আলী (একতারা), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. লিটন (হাতি), গণফোরামের মো. জসিম উদ্দিন (উদীয়মান সূর্য), জেএসডির নুরুল আমিন (তারা) ও এবি পার্টির মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (ঈগল)।
নির্বাচনী প্রচারে ভোটারদের সাড়া পাচ্ছেন বলে প্রথম আলোকে জানান সিপিবির প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন। তাঁর মতে, এই আসনের ভোট কয়েক ভাগ হয়ে গেছে, সে জন্য এবার তাঁর জয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্ধারিত সংখ্যার অতিরিক্ত ও রঙিন ব্যানার লাগিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন জানিয়ে এই প্রার্থী বলেন, ‘ব্যানার বিলবোর্ড-টিলবোর্ড হচ্ছে, অন্যদের ভিড়ে আমরা হারিয়ে যাচ্ছি।’
এই আসনে ঈগল প্রতীকে নির্বাচন করছেন এবি পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। জয়ের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ৭০ শতাংশ আশাবাদী বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।
গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকা–১৪ আসনের বিভিন্ন এলাকার ৩০ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁদের একজন মো. রবিউল ইসলাম। মিরপুর–১ নম্বর এলাকার এই ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাঁদের নেতা–কর্মীরা মাঝেমধ্যে আসে, লিফলেট দেয়, ভোট চেয়ে চলে যায়। তবে তিনি কোন প্রার্থীকে ভোট দেবেন, তা এখনো ঠিক করেননি।