সংসদে আরমান: গুমে জড়িতদের অনেকে এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)ছবি: সংসদ টিভির ভিডিও থেকে

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) বলেছেন, যাঁরা গুমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁদের অনেকে এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। তাঁরা দেশের ভেতর অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তাঁদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এই দাবি জানান আহমাদ বিন কাসেম। এই সংসদ সদস্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে গুমের শিকার হয়েছিলেন।

বক্তব্যে নিজের গুম হওয়া এবং গুমের শিকার কয়েকটি পরিবারের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)। এ সময় তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। গুমের শিকার পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে তিনি তিনটি দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো জবাবদিহি নিশ্চিত করা, গুমের শিকার পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ যাতে আর না হয়, সে জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তিনি বলেন, এ জন্য শক্ত আইন ও রাজনৈতিক দৃঢ়তা প্রয়োজন। স্বাধীন গুম কমিশন ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন প্রয়োজন।

গুমসংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, তাঁরা বেশ কিছু শক্তিশালী অপশক্তির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। যারা এখনো ক্ষমতাসীন অবস্থায় বিদ্যমান। এই সাক্ষ্য তাদের বিশেষ অসুবিধার কারণ। তিনি বলেন, ‘আমাদের জীবনের ঝুঁকি এখনো রয়েছে। যেমনভাবে জীবন দিতে হয়েছে আমাদের ভাই হাদিকে (ওসমান হাদি)।’

গুম হওয়া পরিবারগুলোর কথা তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, যাঁরা গুমের শিকার হয়েছেন, তাঁরা এখনো রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাননি। ভুক্তভোগীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রয়োজন। গুমে জড়িতদের বিচার যেন ফ্যাসিস্ট আমলের মতো লোক দেখানো নাটকের মতো না হয়।

ছাত্ররাজনীতি নিয়ে আলোচনার আহ্বান

বর্তমান ছাত্ররাজনীতি নিয়ে সংসদে আলোচনার আহ্বান জানান পানিসম্পদমন্ত্রী ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শহীদ উদ্দীন চৌধুরী (এ্যানি)। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, যে ছাত্ররাজনীতি চলছে, দু-তিন দিন ধরে তিনি লক্ষ করছেন; বর্তমান প্রজন্ম তা পছন্দ করে না। ফ্যাসিস্টের ধারাবাহিকতায় চাপাতি, অস্ত্র, রামদা, হকিস্টিক নিয়ে সেই ছাত্ররাজনীতি ৫ আগস্টের পরও থাকবে, সেটা এ প্রজন্ম পছন্দ করে না।

গত জাতীয় নির্বাচনে টাকার ছড়াছড়ি হয়েছে দাবি করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘এত টাকার ছড়াছড়ি কোথা হতে এল, বুঝতে পারি নাই। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কথা হচ্ছে। গত দেড় বছরে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে তদন্ত করি, হয়তোবা পাওয়া যাবে এ টাকাগুলো কোত্থেকে এসেছে। করা উচিত।’

বঙ্গবন্ধুর প্রতিও শ্রদ্ধা

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (গাইবান্ধা-৫) মো. আবদুল ওয়ারেছ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

নিজে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, স্বাধীনতার একমাত্র ঘোষক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান, স্বাধীনতার অন্যতম নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আরেকজন নেতা যিনি স্বাধীনতার অগ্রদূত, যিনি ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচন বয়কট করে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ব্যালট বাক্সে লাথি মারো, পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন করো; সেই মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’

এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান বিরোধী দলের এই সংসদ সদস্য। সে সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মীর কাশেম আলী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও কামারুজ্জামানের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

গণভোটের প্রতি বিএনপি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে না উল্লেখ করে আবদুল ওয়ারেছ বলেন, বিএনপি গণভোটকে অপমান করেছে। বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানের নানান ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।