বিএনপির প্রতিনিধিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় জটিলতার সৃষ্টি হলো

বদিউল আলম মজুমদারফাইল ছবি

কিছু অভিযোগ থাকলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হয়েছে। যাঁরা ভোট দিতে চেয়েছেন, তাঁরা ভোট দিতে পেরেছেন। মনে হয় যেন সংশ্লিষ্ট সবাই ফলাফল মেনে নিয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়েছে। এর মানে হচ্ছে, সংস্কারের পক্ষে জনগণ মত দিয়েছে। সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।’ আর এই জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার স্বীকৃতিতে গণভোট আদেশ জারি করা হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর ৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘জনগণের সা‍র্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে এই আদেশ এবং জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার–সম্পর্কিত অংশ গণভোটে উপস্থাপন করা হইবে।’ অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত করার মাধ্যমে জনগণ জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুমোদন করেছে।

এই আদেশের ৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর একই শপথ অনুষ্ঠানে এই আদেশের তফসিল-১ অনুযায়ী পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করিবেন এবং অনুরূপ শপথপত্রে স্বাক্ষর করিবেন।’ তবে বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। শপথ না নেওয়ার মাধ্যমে জটিলতা তৈরি হলো। শুরুতেই একটি বিষয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলো।

আমরা আশা করব, জটিলতা সৃষ্টি না করে সমস্যার সমাধান করা হবে। আমরা এমনিতেই অর্থনীতিসহ নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। সমজাতীয় জাতি হলেও আমরা বহুধাবিভক্ত। বিভক্ত জাতি বেশি দূর এগোতে পারে না। বিভিন্ন দলীয় অবস্থান থাকা সত্ত্বেও এসব সমস্যা সমাধানে জাতি হিসেবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জুলাই গণ–অ‍‍ভ্যুত্থানে অন্তত ১ হাজার ৪০০ ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটেছে। কয়েক হাজার আহত হয়েছেন। তাঁরা স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসানের জন্য কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের লক্ষ্যেই চরম আত্মত্যাগ করেছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদ‍‍র্শন করে ভোটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া রায়ের ভিত্তিতে সমস্যাটির সমাধান করা হবে বলে আশা করি, যা পুরো জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।

বদিউল আলম মজুমদার, অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত সাবেক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য