মির্জা আব্বাসের অস্থাবর সম্পদ ৭০ কোটি টাকার
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির দাম ৭০ কোটি টাকা দেখিয়েছেন মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায়। স্থাবর সম্পত্তির বর্তমান মূল্য দেখিয়েছেন ‘অজানা’, তবে এর অর্জনকালীন দাম দেখিয়েছেন পৌনে চার কোটি টাকা। সেই সঙ্গে ২৫ কোটি টাকা দায় থাকার তথ্যও জানিয়েছেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন মির্জা আব্বাস। এর আগে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি, অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরশনের মেয়রের দায়িত্বও পালন করেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে যাঁরা প্রার্থী হচ্ছেন, বিধি অনুযায়ী তাঁরা নিজেদের আয়–ব্যয় ও সম্পদের তথ্য হলফনামা আকারে জমা দিয়েছেন মনোনয়নপত্রের সঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশিত হয়েছে।
ঢাকার শাহজাহানপুরেরর বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী রাজনীতিক মির্জা আব্বাস হলফনামায় নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে দেখিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের পেশাও দেখিয়েছেন ব্যবসা। মির্জা আব্বাস তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘর পূরণ করেছেন ‘স্নাতক’ লিখে।
অস্থাবর সম্পদ
মির্জা আব্বাস তার অস্থাবর সম্পদের তালিকায় নগদ অর্থ দেখিয়েছেন ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা, বিদেশি মুদ্রা দেখিয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৭৫ ডলার। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর জমা আছে ৭১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত রয়েছে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকার। ঢাকা ব্যাংকে শেয়ার কেনায় তাঁর বিনিয়োগ ৫১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। পুঁজিবাজারে তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে ৬ কোটি ৫৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।
মির্জা আব্বাস তাঁর দুটি গাড়ির মূল্য দেখিয়েছেন ২ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তাঁর কাছে রয়েছে ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণ। আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে তিনটি; যার মূল্য ৪ লাখ টাকার একটু বেশি। আসবাব ও ইলেকট্রনিক পণ্য রয়েছে ৪২ লাখ টাকার।
সব মিলিয়ে মির্জা আব্বাসের অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৬৮ কোটি ৬৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা, যার বর্তমান মূল্য ৭০ কোটি ৩৫ লাখ ১০ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পদ
স্থাবর সম্পদের হিসাবে মির্জা আব্বাস জানিয়েছেন, তাঁর নামে থাকা অকৃষি জমির অর্জনকালীন মূল্য ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ৬ হাজার ১০৬ বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক ভবনের তথ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি ২ হাজার ৯৩০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ও দুটি পার্কিংয়ের মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আরও ৮ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্লোরের মূল্য দেখিয়েছেন ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। পাশাপাশি ৮ হাজার ৬০৪ বর্গফুটের পাঁচটি ফ্ল্যাটের তথ্যও উল্লেখ করেছেন।
সব মিলিয়ে তাঁর স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা। এর বর্তমান মূল্যের ঘরে তিনি লিখেছেন ‘অজানা’।
আয়ের উৎস
হলফনামায় মির্জা আব্বাস জানিয়েছেন, তিনি বাড়িভাড়া থেকে বছরে আয় করেন ৩ কোটি ৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে তাঁর আয় আসে ৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এফডিআর ও ব্যাংক লাভ থেকে আয় দেখিয়েছেন তিনি ১ কোটি ২৯ লাখ ১৭ হাজার ৬০৯ টাকা।
হলফনামায় ২০২৫–২৬ করবর্ষে জমা দেওয়া আয়কর বিবরণীতে নিজের সম্পদের পরিমাণ ৫৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা দেখানোর কথা হলফনামায় উল্লেখ করেছেন মির্জা আব্বাস। এই করবর্ষে ৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা আয়ের বিপরীতে ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা কর দেওয়ার তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
হলফনামায় স্ত্রী ও সন্তানদের আয়, কর ও সম্পদের তথ্য দিয়েছেন মির্জা আব্বাস। তাতে দেখা যায়, তাঁর স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের রয়েছে ২০ কোটি ৫৯ লাখ টাকার সম্পদ। ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাসের সম্পদের পরিমাণ ৬৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকার, মেয়ে নাবিলা মির্জার ৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামার সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, গত সাত বছরে মির্জা আব্বাসের শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত খাতে আয় বেড়েছে। সে সময় এই খাতে তাঁর আয় ছিল ১ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৫ টাকা। সর্বশেষ হলফনামায় এই খাতে আয় দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৯৩ লাখ ১০ হাজার ৩৪১ টাকা।
তবে নগদ টাকার পরিমাণ কিছুটা কমেছে। ২০১৮ সালে তিনি নগদ দেখিয়েছিলেন ৩ কোটি ৬২ লাখ ৩১ হাজার ৩৪০ টাকা আর এবার দেখিয়েছেন ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ওই সময় সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানত খাতে কোনো অর্থ দেখাননি। এবার এই খাতে দেখিয়েছেন ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৪৪ হাজার ৩১১ টাকা।
মামলা
মির্জা আব্বাস জানিয়েছেন, বিরুদ্ধে আগে মোট ২২টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ৭টি মামলা স্থগিত রয়েছে এবং ১৫টি মামলা বিচারাধীন। এর আগে থাকা ১০টি মামলার বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, সেগুলো হয় খারিজ হয়েছে, না হয় আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন।