ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের ইসি ছাড় দিয়েছে: এনসিপি

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। আজ রোববার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়েছবি: প্রথম আলো

প্রার্থিতা-সংক্রান্ত আপিলের শুনানিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রায় প্রত্যেক দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিকে ছাড় দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বৈধতা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বলছে, শনি ও রোববার আপিল শুনানির পুরো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ইসি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য রাজনৈতিক দল ও জনগণের যে আস্থা অর্জন করার কথা ছিল, সেটা হারিয়েছে।

আজ রোববার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়।

এনসিপির মুখপাত্র ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি গতকাল দুপুর থেকে ইসিতে আপিল শুনানিতে ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, শুনানি চলাকালে আইনি যুক্তির বাইরেও চাপ ও আবেগের ভিত্তিতে রায় দিয়েছে ইসি। পুরো বিষয়টা একধরনের নাটকের মতো মঞ্চায়িত হয়েছে। আপিল শুনানির শেষ দিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে ইসির সামনে ছাত্রদলের দু-তিন হাজার নেতা-কর্মী একধরনের মব তৈরি করে রেখেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁরা একধরনের চাপ তৈরি করে রেখেছিলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, শুনানির একটা পর্যায় শেষ হওয়ার পর এবং রায় দেওয়ার আগমুহূর্তে দেড় ঘণ্টা ধরে যে ঘটনা ঘটেছে, তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। সে সময় ইসি বিএনপির মহাসচিবসহ দলটির পাঁচ সদস্যের একটা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করলেন। পরে তাঁরা এসে রায় দিলেন। বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে থাকা আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজলও বিএনপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন। ওই বৈঠকের পর যে রায় দেওয়া হয়েছে, সেটা সম্পূর্ণরূপে একপক্ষীয়।

‘নির্বাচনে অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে’

নির্বাচন কমিশন অনেক বিতর্কিত প্রার্থীকে সংবিধান, আরপিও এবং প্রচলিত আরও কয়েকটি আইন লঙ্ঘন করে বৈধতা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘যদি এ রকমভাবে নির্বাচনের কার্যক্রম সামনের দিকে যেতে থাকে, তাহলে আমরা শঙ্কা প্রকাশ করছি যে এই নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন বাস্তবায়ন করতে পারবে না।’

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আজকে স্পষ্টভাবে বলছি, সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে এই নির্বাচন কমিশনের ওপর দল হিসেবে আমরা কোনো ধরনের কনফিডেন্স আজকের পরে আর পাচ্ছি না। এই পরিস্থিতিতে এসে আমরা এই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব কি না, এটাও পুনর্বিবেচনা করার সময় এসেছে বলে মনে করছি।’

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘অন্যান্য অংশীজন, জোট শরিক এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সহযোগী—সবার সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আমরা প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আবারও কথা বলব। তবে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অবশ্যই একটা শঙ্কা তৈরি হবে—এনসিপি ও আরও অংশীজনেরা এই নির্বাচনে অংশ নেবে কি না। তবে আমরা চাই নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হোক এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।’

সোমবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ

সোমবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এনসিপি সাক্ষাৎ করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা বলেন, বিএনপির ২০ জনের বেশি প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্ব পরিত্যাগ না করেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন; কিন্তু ইসি এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে তাঁদের পার করে দিয়েছে। ঋণখেলাপিদের বৈধতা দিয়েও আইনের ব্যত্যয় করা হয়েছে। এগুলোর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই অব্যাহত রাখা হবে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন।