শোকবইয়ে স্বাক্ষর, তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ বাম নেতাদের

বামধারার দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ সোমবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়েছবি: বিএনপির মিডিয়া সেলের সৌজন্যে

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা। আজ সোমবার বেলা ১১টায় বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর তাঁরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর ও সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, বাসদের (মার্ক্সবাদী) প্রধান সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আবদুল আলী। বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

পরে সন্ধ্যায় এ বৈঠকের আলোচনা তুলে ধরে একটি পৃথক বিবৃতি পাঠিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। বামপন্থীদের বৃহত্তর ঐক্য প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের ঘোষণা দেওয়া হয়, যেখানে বাম গণতান্ত্রিক জোটভুক্ত দলের সঙ্গে বাংলাদেশ জাসদ ও কয়েকটি পেশাজীবী সংগঠন রয়েছে।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে নেতারা সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এবং আসন্ন নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়, সে বিষয়ে আলোচনা করেন। যুক্তফ্রন্টের নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ’২৪–এর গণ–অভ্যুত্থানের পর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরিয়ে আনার। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী চক্র দেশে এক উগ্র সাম্প্রদায়িকতার আস্ফালন চালিয়ে আসছে। মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলে দেশকে ’৪৭–এ নিয়ে যেতে চায়। বিগত সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাইনবোর্ড টাঙিয়ে স্বৈরশাসন কায়েম করেছিল। মুক্তির জনযুদ্ধকে আওয়ামী লীগের দলীয় এবং শেখ হাসিনার পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত করেছিল। এখন সময় এসেছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা তথা সমতার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বাম নেতাদের বৈঠকে কথা বলছেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। আজ সোমবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে
ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেলের সৌজন্যে

তারেক রহমানকে উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বাংলাদেশের ভিত্তি। ’৭১ বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্বই তো থাকে না। ফলে আমি এবং আমার দল বিএনপি মনে করে, ’৭১–এর মুক্তিযুদ্ধ, ’৯০ ও ’২৪–এর গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই আমাদের এগোতে হবে। আমি ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেই আমার বক্তব্যে এটা বলেছি। আমি বলেছি, আমার একটা প্ল্যান আছে। তিনি তার পরিকল্পনায় কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেন এবং যদি জনগণের ম্যান্ডেট পান, তাহলে বাংলাদেশকে একটি উদার গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাক্ষাৎ নিয়ে বিএনপি ও যুক্তফ্রন্ট মনে করে, মতাদর্শিক পার্থক্য ও ভিন্নমত রাজনীতিতে থাকবে, তারপরও গঠনমূলক সমালোচনা, মত ও দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে নেতারা একমত পোষণ করেন। সমালোচনাকারীদের বিগত সরকার যেভাবে ট্যাগিং দিয়ে দেশদ্রোহী ও উন্নয়নবিরোধী বলে নির্যাতন করত, ভবিষ্যতে যাতে কেউ সেটা না করতে পারে, সে বিষয়েও উভয় নেতারা একমত পোষণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা এবং ’৭১, ’৯০ ও ’২৪–এর আকাঙ্ক্ষায় বাংলাদেশকে অগ্রসর করে নেওয়া এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যার যার অবস্থান থেকে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

উভয় পক্ষের নেতারা আগামী নির্বাচনে যাতে সবার সমান সুযোগ এবং সুষ্ঠু-গ্রহণযোগ্য হয়, তার জন্য পরিবেশ তৈরি করতে সরকার এবং নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।