গতকাল সোমবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তালা দিয়ে অবরোধ শুরু করেছিলেন শাখা ছাত্রলীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা। আটকে দেওয়া হয় শাটল ট্রেন, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাস। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়। হঠাৎ অবরোধ করায় দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। স্থগিত করা হয় ৮ বিভাগের ১০টি পরীক্ষা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, গতকাল ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে প্রথমে পরিবহন পুলের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন একাংশের নেতা–কর্মীরা। কয়েকটি বাসের চাবিও নিয়ে যান তাঁরা। তারপর সকাল সাতটার দিকে ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তালা দেওয়া হয়। একই সময় ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নগরের ষোলশহর ও ঝাউতলায় অবস্থানরত দুটি শাটল ট্রেনও আটকে দেন আরেক দল নেতা-কর্মী। ওই ট্রেনে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ছিলেন। এরপর সকাল নয়টার দিকে ক্যাম্পাসে নেতা-কর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। স্লোগান দেন। তবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়ার অনুরোধে মূল ফটকের তালা খুলে দেওয়া হয়।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্র বলছে, গতকাল অন্তত ১৪টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের ১৬টি চূড়ান্ত পরীক্ষা ছিল। পরে শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত হওয়ায় ৬টি বিভাগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর স্থগিত করা হয় ৮ বিভাগের ১০টি পরীক্ষা। বিভাগগুলো হলো ফিশারিজ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, মাইক্রোবায়োলজি, পালি, আরবি, অ্যাকাউন্টিং ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি।

শুরুতে আন্দোলন করে ছাত্রলীগের উপপক্ষ ভার্সিটি এক্সপ্রেস, বাংলার মুখ, এপিটাফ, রেড সিগন্যাল, কনকর্ড ও উল্কা। এসব উপপক্ষের নেতা-কর্মীরা সবাই সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত বিজয়ের নেতা-কর্মীরা।

এ নিয়ে ছাত্রলীগের কমিটির বিরোধে দ্বিতীয়বারের মতো অচল হলো বিশ্ববিদ্যালয়। এর আগে গত ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় ৩৭৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে। কমিটি ঘোষণার পরই পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা চারটি হলের প্রায় ৩০টি কক্ষ ভাঙচুর করেন। ওই দিন রাতেই মূল ফটকে তালা দিয়ে অবরোধের ডাক দেন বিজয়ের নেতা-কর্মীরা। অবরোধ অব্যাহত থাকে ২ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। এ কারণে সে সময় ৯টি বিভাগের ১১টি চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত সবাই তো পদ পাবে না। কয়েকজন কর্মী বাদ যাবে—এটি স্বাভাবিক। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। কথা বলতে পারেন। সেটি না করে অবরোধের ডাক দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, কমিটি নিয়ে বিরোধ ছাত্রলীগের ঘরের বিষয়। এটি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়। কমিটি বর্ধিত করার বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটি হাতে।

পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সোহান খান প্রথম আলোকে বলেন, কমিটি দেওয়ার সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক তদন্ত করে দেননি। জ্যেষ্ঠতা না মেনে কমিটি দিয়েছেন। এ কারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। তবু ক্যাম্পাস অচল করে নেতা-কর্মীরা যা করছেন, তা অন্যায়। দ্রুত বিষয়টির সুরাহা করা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বাস ও শিক্ষার্থীদের শাটল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। অবরোধকারীদের বিষয়ে আজ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন