‘বাজেট অতিমাত্রায় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর’

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াতে ইসলামীছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘গণবিরোধী ও লুটপাটের’ উল্লেখ করে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশ করেন নেতা–কর্মীরা। পরে বিক্ষোভ মিছিল হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, বাজেটের আকার বড় হলেও এটি অতিমাত্রায় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর। জনমুখী সংস্কার এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরের কোনো সুস্পষ্ট প্রতিফলন বাজেটে নেই। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়। অতীতের মতো এবারও রাজস্ব আহরণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে; কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের বাস্তবভিত্তিক পথনকশা অনুপস্থিত।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, বাজেটে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের স্বার্থের প্রতিফলন ঘটেনি। এই বাজেটে ধনীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ আরও বাড়বে। বাজেটের প্রায় ৭০ শতাংশই পরিচালন ব্যয়, বেতন-ভাতা ও সুদ পরিশোধে চলে যাবে। উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় এটি বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, উন্নত জাতি গঠনের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন অপরিহার্য; কিন্তু শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও অগ্রাধিকার বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও এর বড় অংশ রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রচেষ্টা; প্রকৃত দরিদ্রদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। গরিব মানুষের জন্য নীতিবাক্যের অভাব নেই; কিন্তু সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল এই বাজেটে অনুপস্থিত।

জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার উদ্যোগেও পৃথক সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকায়।

বাজেট নিয়ে আগামীকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাবে জামায়াত। রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।