‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’-এর বাস্তবায়নই এবারের বাজেট, সংসদে আইনমন্ত্রী
এবারের বাজেট প্রধানমন্ত্রীর দেড় দশকের রাষ্ট্রচিন্তার বাস্তব প্রতিফলন বলে দাবি করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বাজেটকে ‘স্বপ্নবিলাসী’ ও ‘উচ্চাভিলাষী’ বলে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, যে জাতি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে এগিয়ে যেতে পারে না। বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সোপান হিসেবেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের প্রথম বাজেট ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার। আর আজ সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপিত হয়েছে। এ অগ্রযাত্রা দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতিফলন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাজেট সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি যারা সমালোচনা করে, সিপিডি। সিপিডির পক্ষ থেকে ডক্টর দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন অনেক চিন্তাশীল বাজেট।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই চিন্তা একদিনের চিন্তা নয়। এই চিন্তা বিগত প্রায় দেড় দশক ধরে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশকে নিয়ে চিন্তার ফসল।’ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে বলেছিলেন, আই হ্যাভ আ প্ল্যান। সেই পরিকল্পনার সুচিন্তিত রূপায়ণই এবারের বাজেট।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই বলার চেষ্টা করেছেন এটা স্বপ্নবিলাসী বাজেট, উচ্চাভিলাষী বাজেট। ইয়েস মাই লর্ড, ইয়েস মাননীয় স্পিকার, এটা স্বপ্নবিলাসী এবং উচ্চাভিলাষী বাজেট। যে মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে বাংলাদেশের সামনের দিকে এগোতে পারবে না। যার উচ্চাভিলাষ নেই, সে কখনো আকাশের দিকে উঠতে পারবে না।’
মন্ত্রীর দাবি, এবারের বাজেট গরিব রক্ষা করার বাজেট, মধ্যবিত্তের বাজেট, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাজেট, ব্যবসাবান্ধব বাজেট এবং কর্মসংস্থানের বাজেট। বাজেটে কৃষি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রান্তিক কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভর্তুকি এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সম্প্রসারণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসাশিক্ষার উন্নয়নে অতিরিক্ত ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মদ ও তামাকজাত পণ্যের ওপর কর আরোপের বিষয়টিও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই বাজেটে কী নেই? আমি বলব, এই বাজেটে নেই, যারা মদ খায়, তাদের জন্য কম পয়সায় মদ খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। যারা সিগারেট বা নিকোটিন খায়, তাদের কম পয়সায় সিগারেট বা নিকোটিন খাওয়ার পথও রুদ্ধ করা হয়েছে।’ মন্ত্রীর মতে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাজেটের সমালোচক বিরোধী দলের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, তাদের সমালোচনায় সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত নেই। বিরোধী দল একদিকে কর্মসংস্থান বাড়ানোর কথা বলাছে, অন্যদিকে বাজেটের আকার ছোট করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, সরকারের পরিকল্পনায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন এবং ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি রয়েছে। এসব উদ্যোগ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
আইনমন্ত্রী দাবি করেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে। জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপ থাকা সত্ত্বেও সামাজিক নিরাপত্তা ও সহায়তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রগতির পথ ধরে হাঁটি, আমরা উন্নয়নের পথ ধরে হাঁটি। যেভাবে পথ দেখিয়ে গিয়েছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণী আমাদের গণতন্ত্রের জননী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।’
বাজেটকে সুশাসন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষ যেন ব্যাংক বা পোস্ট অফিসে জমা রাখা অর্থ নির্বিঘ্নে ফেরত পান, সে ধরনের আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য।
অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে দেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচার হয়ে বিদেশে সম্পদ গড়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী লুটপাটের অর্থনীতি বন্ধ করার যে অঙ্গীকার করেছেন, এবারের বাজেট সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ইসলামী ব্যাংক ঘিরে চলমান বিতর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, শেয়ার মালিকানা ও শেয়ার পুনর্বহালের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি।