বিএনপির আন্দোলনের সমালোচনা করে মৃণাল কান্তি দাস বলেন, ‘বিএনপি ২০০৮ সালে, ২০১৪ সালে সরকার হটাতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারেনি। শেষে আপনা–আপনি লেজ গুটিয়ে...ঘরে ফিরে গেছে। এইবারও স্পর্ধা দেখাচ্ছে। মাঝে মাঝে হুংকার দিচ্ছে, ধমক দিচ্ছে, দেখিয়ে দিবে। বিচার করবে, ফাঁসি দেবে।’

নিজের নির্বাচনী এলাকা (মুন্সিগঞ্জ–৩ আসন) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন থেকে অনেকটাই বঞ্চিত বলে সংসদে উল্লেখ করেন মৃণাল কান্তি দাস। তিনি বলেন, পদ্মা, মেঘনা, গোমতী, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা নদী এলাকায় অনেক চর, হাওর-বাঁওড় আছে। সেখানকার মানুষ অনেক কষ্টে আছেন বন্যা, নদীভাঙনে। রয়েছে ভূমিদস্যুতা, বালুদস্যুতা। বালুদস্যুরা মানুষের ভূমি কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী চান এক ইঞ্চি জমিও যাতে অনাবাদি না থাকে। আর বালুদস্যুরা দিনে-দুপুরে প্রশাসনের নাকের ডগায় ভেকু দিয়ে ৪-৫ ফুট মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। কৃষকেরা চাষ করতে পারেন না।

নিজের অসহায়ত্ব তুলে ধরে সরকারি দলের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘জেলা প্রশাসককে জানাই। পুলিশকে জানাই। কোথাও সহযোগিতা পাই না। অসহায় এমপি তাঁর এলাকার মানুষের জানমালের জীবন রক্ষা করতে।’

নিজের বক্তব্যের জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় স্পিকারের কাছে বাড়তি সময় চেয়ে আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার একটু সময় দেন। পত্রপত্রিকায় যা দেখি, আপনাকে কত দিন আর এই আসনে পাই, ভবিতব্যই জানেন।’

ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় সংসদ সদস্য কবিরুল হক বলেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় (নড়াইল–১ আসন) অনেক কিছু হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য নবগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য ২০১৭ সালে একটি দুই বছর মেয়াদি প্রকল্প নেওয়া হলেও দুর্নীতিবাজ কিছু আমলার কারণে সেই প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। সরকারের প্রায় ১০০ কোটি টাকা পানিতে বিলীন হচ্ছে।

স্পিকারের উদ্দেশে কবিরুল হক বলেন, ‘এ কথা কি কখনো শুনেছেন মাননীয় স্পিকার, একটি ব্রিজের পিলার একটি ট্রলারের আঘাতে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়! এই দুঃখের কথা, এই কষ্টের কথা আমি কার কাছে বলব?’

গাজীপুর–৪ আসনের সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি বিধবা ভাতা বাড়ানো, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করা এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার দাবি জানান।

অন্যান্যের মধ্যে সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ, আহসানুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী আসনের নাহিদ ইজহার খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।