যুগপৎ কর্মসূচি নিয়ে একটি বৃহত্তর আন্দোলন গড়ার লক্ষ্যে বিএনপি তাদের পুরোনো ২০–দলীয় জোট ভেঙে দিয়েছে। ওই জোটে বিএনপির একসময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামী ছিল।

এখন জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির দৃশ্যত একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। ২০–দলীয় জোট ভেঙে দেওয়ার পর ১২–দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট এবং সমমনা গণতান্ত্রিক জোট নামের তিনটি জোট হয়েছে। কর্মসূচিতে এ তিন জোটেরই জমায়েত করার শক্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী নতুন জোটগুলোর বাইরে থেকে যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচিতে মাঠে নেমেছিল। কিন্তু পরের কর্মসূচিগুলোতে জামায়াত অংশ নেয়নি।

বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, আন্দোলনে থাকা অন্য দল এবং জোটগুলোর তৎপরতা যে আশাব্যঞ্জক নয়, বিষয়টি তাঁদের ভাবাচ্ছে।  

গণতন্ত্র মঞ্চে অসন্তোষ, ভাঙনের আশঙ্কা

এ মঞ্চ গঠনের পাঁচ মাস যেতে না যেতেই নেতৃত্বের বিরোধ এখন চরম রূপ নিয়েছে। গত ৮ আগস্ট এ মঞ্চ গঠিত হয়েছিল সাতটি দল নিয়ে।

গণতন্ত্র মঞ্চে রয়েছে আ স ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), সাইফুল হকের বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, জোনায়েদ সাকির গণসংহতি আন্দোলন, নুরুল হক নুরের গণ অধিকার পরিষদ, শেখ রফিকুল ইসলামের ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও হাসনাত কাইয়ুমের রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। এর মধ্যে জেএসডি ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত দল।

গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপিসহ সরকারবিরোধী সব দল ও জোট তিনটি কর্মসূচি পালন করে। দেখা গেছে, তিনটি কর্মসূচিতেই গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম শীর্ষ নেতা আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না ও রেজা কিবরিয়া বা নুরুল হক ছিলেন না। এর মধ্যে ১৬ জানুয়ারি বিক্ষোভ সমাবেশে গণ অধিকার পরিষদ অংশগ্রহণই করেনি। এ নিয়ে মঞ্চে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এ মঞ্চের নেতাদের অনেকে বলেছেন, তাঁদের মঞ্চে নেতৃত্বের বিরোধের কারণে এখন বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো কোনো দল সামর্থ্য অনুযায়ী কর্মসূচিতে উপস্থিতি নিশ্চিত করছে না। বিষয়টি আমাদের নিজেদের (জোটে) মধ্যেও একটা আলোচনা আছে।’

গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জোটের কর্মসূচিগুলোতে তাদের জনবলই বেশি থাকে। অথচ তাদের সেভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। এর মধ্যে ১১ জানুয়ারির ‘গণ অবস্থান’ কর্মসূচি ঘিরে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাদের সঙ্গে গণ অধিকার পরিষদের মনোমালিন্য দৃশ্যমান হয়। এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে চেয়েছিলেন গণ অধিকারের সদস্যসচিব নুরুল হক। তিনি কিছুদিন বিদেশে ছিলেন। ঢাকায় পৌঁছেই জানানো হয়, নুরুল হক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। কিন্তু জোটের অন্য নেতারা তাঁর আগেই সমাবেশ শেষ করে দেন।

এ বিষয়ে জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রথম আলোকে বলেন, ‘তড়িঘড়ি কর্মসূচি শেষ করা হয়েছে, এমন অভিযোগ সঠিক নয়। এখানে কাউকে অধিক মূল্যায়ন কিংবা অবমূল্যায়নের সুযোগ নেই। আমরা জনগণের বৃহত্তর ঐক্যের লক্ষ্যে কাজ করছি। এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারোরই এমন তৎপরতা প্রত্যাশিত নয়।’

গণতন্ত্র মঞ্চের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নুরুল হকের তৎপরতা ও বক্তব্য নিয়ে জোটে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের আগে তাঁর অনিয়ন্ত্রিত বক্তব্য, জোটের কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী ও আলেমদের যুক্ত করার পক্ষে তাঁর জোরালো অবস্থান এবং সর্বশেষ বিদেশে গিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করার অভিযোগ জোটে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে গণ অধিকার পরিষদের নেতারা বলছেন, তাঁরা একটি উদার গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একটি বৃহত্তর আন্দোলন গড়ার লক্ষ্য নিয়ে গণতন্ত্র মঞ্চ গঠন করেন। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তাঁরা দেখছেন, এ জোট বাম ধারার দলগুলো দ্বারা প্রভাবিত। ইসলামপন্থী বা ডানদের ব্যাপারে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয়। সব মিলিয়ে দূরত্বের সৃষ্টি করেছে।

নুরুল হক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সরকারবিরোধী একটি বৃহত্তর আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে চেয়েছি। এ ক্ষেত্রে ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে আসা তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ছিল, তাদের আরও এগিয়ে আনা হবে। কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, তা হচ্ছে না। তারা একেবারেই বাম ধারার লোকদের যুক্ত করতে চায়। এটা তো সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।’

গণ অধিকার পরিষদের নেতারা জানান, ২৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস পালনের যুগপৎ যে কর্মসূচি রয়েছে, সেখানেও তাঁরা অংশ নেবেন না। এ ছাড়া গণ অধিকার পরিষদকে জোটে উপযুক্ত মূল্যায়ন না করা, খবর দেওয়ার পরও ১১ জানুয়ারির কর্মসূচি তড়িঘড়ি শেষ করাসহ বিতর্ক ওঠা বিষয়গুলো সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা গণতন্ত্র মঞ্চের কর্মসূচিতে যাবেন না।

তবে জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান (মান্না) ২৫ জানুয়ারির কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। গণতন্ত্র মঞ্চের টানাপোড়েন নিয়ে তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘অসুস্থতার কারণে আমি পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। তবে বিভিন্ন অনলাইনে এবং পত্রপত্রিকার রিপোর্টে যা দেখেছি, তাতে কথাবার্তাগুলোকে একেবারে ছেলেমানুষি মনে হয়েছে। আমরা কথাবার্তা বলব, সমাধান করার চেষ্টা করব।’

এ ছাড়া অলি আহমদের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জামায়াতে ইসলামী, মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বাধীন গণফোরাম বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করছে। যদিও জামায়াত পুরোপুরি বিএনপির কর্মসূচির সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে না। ১১ জানুয়ারি তারা গণ অবস্থান কর্মসূচি না করে ঘরোয়াভাবে আলোচনা সভা করেছে।

দুই জোটে ২২ দল, উপস্থিতি কম

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট ভেঙে গত ডিসেম্বর মাসে দুটি জোট হয়। এর একটি ১২–দলীয় জোট, অন্যটি জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট। দুটি জোটের শরিক দলের সংখ্যা ২১ বা ২২টি। কারণ, ইসলামী ঐক্যজোট (একাংশ) ও সাম্যবাদী দল নামে দুটি দলের নাম দুই জোটেই আছে। কার্যত এই দুই জোটের শরিক অধিকাংশ দলই নামসর্বস্ব। বেশ কয়েকটি দলের কার্যালয় পর্যন্ত নেই। এই ২১ বা ২২টি দলের মধ্যে কেবল বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) নিবন্ধন আছে।

১৯৯৬ সালে সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও জাতীয় পার্টি মিলে চারদলীয় জোট গঠন করেছিল। ২০১২ সালে এসে সেই জোট ভেঙেচুরে ১৮–দলীয় জোট হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আগে আরও দুটি দল যুক্ত হয়ে ২০–দলীয় জোট হয়। এই কয়েক বছরে একেকটি দল দুই-তিন ভাগও হয়েছে।

গত ৯ ডিসেম্বর এক ঘরোয়া বৈঠক ডেকে বিএনপি জানিয়ে দেয়, তারা আর ২০–দলীয় জোটের নাম ব্যবহার করবে না। এরপর দলগুলো যার যার মতো জোট গঠন করে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত হয়। এদের অন্যতম ১২–দলীয় জোট। এই জোটের প্রধান নেতা সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার। তিনি জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান। এ ছাড়া সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, শাহাদাত হোসেন সেলিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এলডিপি, মোস্তাফিজুর রহমানের বাংলাদেশ লেবার পার্টি, সৈয়দ এহসানুল হুদার বাংলাদেশ জাতীয় দল, কে এম আবু তাহেরের নেতৃত্বে এনডিপি, জুলফিকার বুলবুল চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল), মুফতি মহিউদ্দিন ইকরামের নেতৃত্বে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, মাওলানা আবদুর রকীবের নেতৃত্বে ইসলামী ঐক্যজোট, তাসমিয়া প্রধানের নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল ও আবুল কাসেমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি। এ জোটের যুগপৎ আন্দোলনের তিনটি কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি আহামরি ছিল না বলে বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

১২–দলীয় জোটের মুখপাত্র ও কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এত দিন বড় দল বিএনপির সঙ্গে ছিলাম। জোটবদ্ধ যুগপৎ আন্দোলনের যাত্রা মাত্র শুরু হলো। অনেকগুলো দলের সীমাবদ্ধতা আছে—এটা বাস্তবতা। আর্থিক সচ্ছলতা না থাকলে রাজনীতি করা বিলাসিতা, আন্দোলন করা আরও বড় বিলাসিতা। এতত্সত্ত্বেও যৌথ কর্মসূচিতে অবদান রাখার ক্ষেত্রে কারও আগ্রহের কমতি নেই।’

পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, যুগপৎ আন্দোলনের তিন কর্মসূচিতে কম উপস্থিতি ছিল জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে। এই জোটে থাকা দলগুলো হলো ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জাগপা (খন্দকার লুৎফুর), ডেমোক্রেটিক লীগ (ডিএল), বাংলাদেশ ন্যাপ, বিকল্পধারা (নুরুল আমিন), সাম্যবাদী দল, গণদল, ন্যাপ-ভাসানী, ইসলামী ঐক্যজোট, পিপলস লীগ ও বাংলাদেশ সংখ্যালঘু জনতা পার্টি।

১১ জানুয়ারির গণ অবস্থান কর্মসূচিতে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের নেতা-কর্মী মিলে উপস্থিত ছিল ৬৫ জন, যা সংবাদমাধ্যমে খবর হয়েছিল।

অবশ্য এ জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ক্রমান্বয়ে আমাদের জোটের কর্মসূচিতে উপস্থিতি বাড়ছে। ডে বাই ডে ইনক্রিজ হচ্ছে। গত কর্মসূচি (১৬ জানুয়ারির বিক্ষোভ সমাবেশ) খুবই ভালো হয়েছে।’

দল ভেঙে কেন ‘সমমনা গণতান্ত্রিক জোট’

দুই জোট ছাড়াও ৮ জানুয়ারি ‘সমমনা গণতান্ত্রিক জোট’ নামে আরেকটি জোট আত্মপ্রকাশ করে। এ জোটে কোনো রাজনৈতিক দল নেই। এ জোটে ১৫টি সংগঠন রয়েছে। এ সংগঠনগুলো বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপিসহ ডানপন্থী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা করে থাকে।

জোটের সমন্বয়ক ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি সাইদুর রহমান। শরিক সংগঠনগুলো হলো জিয়া নাগরিক সংসদ, ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট, শহীদ জিয়া আইনজীবী পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নাগরিক দল, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি, সংবিধান সংরক্ষণ পরিষদ, গণতন্ত্র রক্ষা মঞ্চ, জাতীয়তাবাদী চালক দল, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ ৭১, ঘুরে দাঁড়াও বাংলাদেশ, মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি, বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল, দেশ রক্ষা মানুষ বাঁচাও আন্দোলন ও বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ।

বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, ২০-দলীয় জোট ভেঙে দেওয়ার পরে হঠাৎ করে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে এমন একটি জোটের আত্মপ্রকাশ নিয়ে দলের ভেতরেই সমালোচনা আছে। বিষয়টি অনেকের মনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকেরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে বড় দলগুলো ছোট দলগুলোকে কাছে টানে নানা কারণে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে নিজেদের পাল্লা ভারী করা এবং নানা অবস্থান থেকে সরকারবিরোধী বক্তব্যও জোরালো করা। ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের পর, রাজনীতি অনেকটা জোটভিত্তিক হয়ে গেছে। তবে এ ক্ষেত্রে বিএনপি জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভিন্ন কৌশল নিয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো ২০–দলীয় জোট ও গতবারের জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ভেঙে দিয়ে বৃহত্তর যুগপৎ আন্দোলন গড়তে চাইছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘রাজনীতি কখনো স্ট্যাটিক (স্থির) নয়, মুভ করে। আমরা মনে করেছি, জোটবদ্ধ আন্দোলনের চেয়ে যুগপৎ আন্দোলন বেটার, সে জন্য এটা (জোট ভেঙে দেওয়া) করেছি।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রাজনীতি ও সরকার’ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান দিলারা চৌধুরী বলেন, দল ভারী করার জন্যই মূলত বড় দলগুলো জোট করে। ছোট দলের অনেক নেতা আছেন, যাঁদের জাতীয় পরিচিতি আছে। তাঁদের ভোট না থাকলেও একটা গণ আবেদন আছে। এ জন্যই তাঁদের কাছে টানে, আবার তাঁরাও উপকৃত হন। কিন্তু মূল কাজটা বিএনপিকে একাই করতে হবে।