জামায়াতের আমির চাইলে চিঠিটি প্রকাশ করতে প্রস্তুত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান চাইলে তাঁর আলোচিত চিঠিটি প্রকাশ করতে প্রস্তুত রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ওই চিঠি নিয়ে সংবাদ প্রতিবেদন দেখার পর কিছু বিষয় স্পষ্ট করতে আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, জামায়াতের কারও সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনে কোনো কথা হয়নি।
শফিকুর রহমান সম্প্রতি বিরোধীদলীয় নেতার প্যাডে নিজের স্বাক্ষরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে একটি চিঠি দেন। সেই চিঠিতে শফিকুর তাঁর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় মন্ত্রণালয়ে পদায়নের জন্য অনুরোধ করেন।
তা নিয়ে প্রথম আলোয় গতকাল ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের উপদেষ্টার পদায়ন চান বিরোধীদলীয় নেতা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর আলোচনা তৈরি হয়। এরপর জামায়াত এক ব্যাখ্যায় জানায়, উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান জামায়াতের আমিরের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে চিঠিতে মন্ত্রীর পদমর্যাদা-সংক্রান্ত অংশটি যুক্ত করেছিলেন। বিষয়টি নজরে আসার পর মাহমুদুল হাসানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জামায়াতের ফোনালাপের বিষয় আসায় তার পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের কোনো ফোনালাপ আদৌ সংঘটিত হয়নি।
যে চিঠি নিয়ে এই আলোচনা, সেটির প্রেক্ষাপট ও বিষয়বস্তু সম্পর্কেও বিবৃতিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি চিঠি পাঠান। প্রথমে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে এবং পরে সরাসরি তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করেন। চিঠিটি বিরোধীদলীয় নেতার জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা ছিল এবং এর নিচে কেবল বিরোধীদলীয় নেতারই স্বাক্ষর রয়েছে।
চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিবৃতিতে বলা হয়, মাহমুদুল হাসানকে ‘বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা’ হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে সেখানে। চিঠিতে বিরোধীদলীয় নেতা ড. হাসানের দক্ষতা, পেশাদারত্ব ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করেন। দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে একত্রে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তাঁকে উল্লিখিত পদে পদায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিশেষ অনুরোধ জানান তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বিরোধীদলীয় নেতা লিখিতভাবে সম্মতি প্রদান করলে চিঠিটির পূর্ণাঙ্গ পাঠ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।