সংসদের চলতি অধিবেশনেই বাণিজ্যচুক্তি বাতিল চায় গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটিছবি: গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির ফেসবুক পেজ থেকে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি পর্যালোচনা করে তা জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনেই বাতিলের দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।

অধিকার কমিটি বলেছে, চুক্তিটি পর্যালোচনা করে তা বাতিলের দাবিসংবলিত খোলাচিঠি তারা সংসদে দিয়েছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা না হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ।

গতকাল বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডে বাসদের (মার্ক্সবাদী) কার্যালয়ে অধিকার কমিটির সাধারণ সভা হয়। এই সভা থেকে জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে ‘দেশবিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি’ পর্যালোচনা করে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বাজেটে জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ভারতের ‘পুশ ইন’ অপতৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে অধিকার কমিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকালের সভার শুরুতে দেশবিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে ৭ জুন সংসদের সামনে সম্মিলিত গণপ্রতিবাদ সফল করায় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সবাইকে অভিনন্দন জানানো হয়। এই চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের জন্য বিভিন্ন সংগঠনসহ সর্বস্তরের নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি প্রতিবাদের বক্তব্যসংবলিত খোলাচিঠি জাতীয় সংসদে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি। তাই সভা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। চলমান জাতীয় সংসদে দেশবিরোধী এই মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি পর্যালোচনা করে তা বাতিলের দাবি জানানো হয় সভায়।

সম্প্রতি বিভিন্ন সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশ ইন করার ঘটনা দেখা যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। এতে বলা হয়, এমন অবস্থায় শিশু, নারীসহ এই মানুষেরা এক অমানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য ভারত সরকারের আধিপত্যবাদী ভূমিকাকে দায়ী করে তীব্র নিন্দা জানানো হয় সভায়। পাশাপাশি এর মীমাংসা করতে যথাযথ আন্তর্জাতিক আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ও ভারত উভয় সরকারের সম্মিলিত উদ্যোগের দাবি জানানো হয়। প্রয়োজনে জাতিসংঘের ভূমিকা আহ্বান করা হয়।

অধিকার কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশে নারী ও শিশুদের প্রতি ক্রমবর্ধমান নির্যাতনের ঘটনা শঙ্কার সৃষ্টি করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার পাওয়া একটি-দুটি ঘটনার দ্রুত বিচার করে অন্যগুলোর ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা না করে সামগ্রিকভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানায় সভা। সব অপরাধ প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সরকারকে আরও সক্রিয় হতে সভা থেকে তাগাদা দেওয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি ঘটেছে। এটি জনমনে অস্থিরতার সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অধিকার কমিটির সভায় দেশের ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতির মধ্যে জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য দৈনন্দিন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির নিন্দা জানানো হয়। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পরও সারা দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেড়েছে উল্লেখ করে সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির টেকসই সমাধানের জন্য সভায় বাজেটে জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বেসরকারীকরণ, দুর্নীতি ও ভুল নীতি পরিহার করে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চালুসহ অবিলম্বে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার পাটকল শ্রমিকদের যেসব সমাবেশ হওয়ার কথা, সেগুলোর প্রতি সংহতি জানিয়েছে অধিকার কমিটি।

অধিকার কমিটির গতকালের সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক হারুন অর রশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা, নারী অধিকারকর্মী সীমা দত্ত, নাট্যজন কাজী আলাউদ্দিন, শ্রমিকনেতা মানস নন্দী, সংস্কৃতিকর্মী একরাম হোসেন, সজীব তানভীর, লেখক-গবেষক মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, ছাত্রনেতা রাফিকুজ্জামান ফরিদ, চিকিৎসক নাজমুস সাকিব প্রমুখ।