প্রার্থীর ব্যানারে লেখা ‘আমি  ছোট, আমাকে মারবেন না’

এই সংসদীয় আসনে প্রার্থী আটজন।এই আসন থেকে নির্বাচন করছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শফিকুর রহমান।

বড় দলের প্রার্থীদের ঢাউস ব্যানারের নিচে ছোট প্রার্থীরা চমকপ্রদ সব কথা লিখে ছোট ছোট ব্যানার টানিয়েছেন। প্রার্থী শোয়েব আমান উল্লাহ লিখেছেন, ‘আমি ছোট, আমাকে মারবেন না।’ গতকাল রাজধানীর কাফরুলের ইব্রাহিমপুরেছবি: প্রথম আলো

কাফরুলের ইব্রাহিমপুর থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর মোড়ের দিকে যেতে সড়ক বিভাজকের ওপর টানানো বেশ বড় আকারের দুটি রঙিন ব্যানার যে কারও চোখে পড়বে। প্রথম ব্যানারে বিএনপির প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে ধানের শীষে ভোট চাওয়া হয়েছে। অপর ব্যানারে ভোট চাওয়া হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শফিকুর রহমানের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে।

ধানের শীষ প্রতীকের ব্যানারটির ঠিক নিচে ছোট আকারের আরেকটি রঙিন ব্যানার রয়েছে। এই ব্যানারের ওপরের অংশে লেখা, ‘কলম মার্কায় ভোট দিন’। এর নিচে লেখা রয়েছে, ‘আমি ছোট, আমাকে মারবেন না’।

সাধারণত সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা রিকশার পেছনে এমন ‘বাণী’ থাকে। নির্বাচনী প্রচারের ব্যানারে এটি লেখার কারণ কী, তা জানতে চাইলে ঢাকা-১৫ আসনে কলম প্রতীকের প্রার্থী খান শোয়েব আমান উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বড় দলের যাঁরা প্রার্থী, তাঁদের সমর্থকেরা পোস্টার লাগানো নিয়ে প্রায়ই মারামারি করে। তাই আমি নিজেকে ছোট বলে উল্লেখ করেছি; যাতে কেউ আমার ওপর চড়াও না হয়।’

শোয়েব আমান উল্লাহ জনতার দলের প্রার্থী। ঢাকা-১৫ আসনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে আর কোথাও জনতার দলের ব্যানার-ফেস্টুন চোখে পড়েনি, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি ইউরোপীয় স্টাইলে প্রচার চালাচ্ছি। ডোর-টু-ডোর (বাড়ি বাড়ি) এবং চায়ের দোকানগুলোতে গিয়ে সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলছি।’

ঢাকা উত্তর সিটির ৪, ১৩, ১৪ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড (মিরপুর ও কাফরুল থানা) নিয়ে ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসন। এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসন থেকে নির্বাচন করছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. শফিকুর রহমান। তাঁর পক্ষে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা প্রচারের প্রথম দিন থেকেই সক্রিয় আছেন। শফিকুর রহমান নিজেও এই আসনে একাধিক জনসভা, পথসভা ও নারী সমাবেশের পাশাপাশি জনসংযোগ করে যাচ্ছেন।

এই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন শফিকুল ইসলাম খান। তিনি যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত জনসংযোগ করে যাচ্ছেন শফিকুল ইসলাম খান। অন্য প্রার্থীরা হলেন সিপিবির আহাম্মদ সাজেদুল হক (কাস্তে প্রতীক), জাতীয় পার্টির মো. সামসুল হক (লাঙ্গল), বাংলাদেশ জাসদের আশফাকুর রহমান (মোটরগাড়ি-কার), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মোবারক হোসেন (একতারা) এবং আমজনতার দলের নিলাভ পারভেজ (প্রজাপতি)।

বড় দলের যাঁরা প্রার্থী, তাঁদের সমর্থকেরা পোস্টার লাগানো নিয়ে প্রায়ই মারামারি করে। তাই আমি নিজেকে ছোট বলে উল্লেখ করেছি; যাতে কেউ আমার ওপর চড়াও না হয়।
ঢাকা-১৫ আসনে কলম প্রতীকের প্রার্থী খান শোয়েব আমান উল্লাহ

গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত ঢাকা-১৫ আসনের বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়ক, অলিগলি মোটরসাইকেলে করে ঘুরে দেখেছেন এই প্রতিবেদক। বেশির ভাগ এলাকার মূল সড়কে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা গেছে। তবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সাতটি স্থানে বিএনপির ও পাঁচটি স্থানে জামায়াতের পক্ষে রঙিন ব্যানার দেখা গেছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।

সংখ্যায় কম হলেও লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা জাতীয় পার্টির প্রার্থী সামসুল হকের ব্যানার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে। সিপিবির প্রার্থী আহাম্মদ সাজেদুল হকের ব্যানার-ফেস্টুন দেখা গেছে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর মোড় পর্যন্ত সড়কে বিভাজকে, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ও গাছে। এর বাইরে কাজীপাড়া মেট্রোস্টেশন এলাকা ও ৬০ ফুট সড়কে এই প্রার্থীর ব্যানার দেখা গেছে।

সিপিবির প্রার্থী সাজেদুল হক বলেন, ‘আমাদের বাজেট সীমিত। মূল ফোকাস হলো অলিগলি এবং মানুষের বাড়ি বাড়ি যাওয়া। অর্থের শক্তির চেয়ে পরিশ্রমকেই আমরা মূল হাতিয়ার করেছি।’

এই আসনের ১৩ জন ভোটারের সঙ্গে গতকাল কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁদের একজন উত্তর কাফরুল এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক আলী। তিনি বলেন, জামায়াত ও বিএনপির বাইরে অন্য কোনো দলের কেউ তাঁর কাছে এখনো ভোট চাইতে আসেননি।

আরেক ভোটার মণিপুরের বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিপদে-আপদে যাঁকে কাছে পাওয়া যাবে, তাঁকেই ভোট দেবেন তিনি।

এই আসনের ভোটারদের অনেকেই সরাসরি কিছু বলতে চান না এমন পর্যবেক্ষণ দুই প্রার্থীর। তাঁদের একজন বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী আশফাকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘অনেকে চাপের কারণে প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। কিন্তু গোপনে তাঁরা আমাকে সমর্থন দিচ্ছেন।’

আরেক প্রার্থী আমজনতার দলের নিলাভ পারভেজ বলেন, ভোট দিয়ে আদৌ পরিবর্তন আসে কি না, এমন প্রশ্নও কেউ কেউ করছেন। আসলে দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে ভোটারদের আস্থা কমে গেছে। এ রকম অবস্থায় নির্বাচিত হওয়ার চেয়ে সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ নির্মাণে কাজ করা তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে।