রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা–ভাঙচুর
প্রথমে সর্প হইয়া দংশন করো, পরে ওঝা হয়ে ঝাড়ো: আসিফ মাহমুদ
রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দখল ও ভাঙচুরের পর সেখানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোকে কটাক্ষ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেছেন, ‘প্রথমে সর্প হইয়া দংশন করো, পরে ওঝা হয়ে ঝাড়ো—এ রকম একটা কার্যক্রম আমরা প্রত্যক্ষ করলাম।’
আজ সোমবার বিকেলে গুঁড়িয়ে দেওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, রাড্ডা ক্লিনিক দখলের ঘটনা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। তাঁর ভাষায়, ‘বাংলাদেশে এ রকম দখলের ঘটনা তো শুধু রাড্ডায় ঘটে নাই। দখলের ঘটনা অন্তত কয়েক হাজার জায়গায় ঘটেছে।’
দখলদারদের উদ্দেশে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘যে হাজার হাজার জায়গায় আপনারা দখল করেছেন, সেগুলো যদি আল্লাহর ওয়াস্তে ছেড়ে দেন, তাহলে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে আপনাদের ধন্যবাদ জানাব।’ রাড্ডা ক্লিনিকের জায়গাটি যেন ভবিষ্যতে আবার দখল না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দখলের দুটি ধরন দেখা যাচ্ছে—একটি লাঠিসোঁটা ও হেলমেট নিয়ে এসে ভাঙচুর চালিয়ে দখল করা, অন্যটি কলমের খোঁচায় দখল।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘কলমের খোঁচায় দখল তো আমরা প্রায়ই দেখি। এই জায়গাটি যাতে আবার কলমের খোঁচায় দখল হয়ে না যায়, সেদিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’
রাড্ডা ক্লিনিকের জায়গায় সরকার ১০তলা ভবন নির্মাণ করলেও পুরো ভবনটিই ক্লিনিকের কাজে ব্যবহার করতে হবে বলে দাবি জানান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, ‘এখানে দুটি ফ্লোর ক্লিনিককে দিয়ে বাকিটা নিয়ে মার্কেট করা বা ভাগ-বাঁটোয়ারা করা চলবে না।’
রাড্ডা ক্লিনিককে ‘প্রতিরোধের প্রতীক’ আখ্যা দিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের কারণে জনগণ এই জায়গা উদ্ধার করেছে। এই জায়গাটি এখন প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে থাকবে।’ যেকোনো জায়গায় দখলের শিকার ভুক্তভোগীদের পাশে জাতীয় নাগরিক পার্টি সব সময় থাকবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
রাড্ডা ক্লিনিকে হামলার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘রাড্ডা ক্লিনিকের যে ক্ষতি হয়েছে, সরকারি উদ্যোগে তার যথাযথ সংস্কার ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যেসব সরঞ্জাম ও টিকা লুট হয়েছে, সেগুলোরও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’ হামলায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে প্রায় ২০০ জনের মতো লোক এসে প্রকাশ্যে তিন ঘণ্টা ধরে হামলা চালিয়েছে। দুই-তিন বা চারজনকে গ্রেপ্তার করলেই চলবে না; যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
গ্রেপ্তার হওয়া শাহ আলম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে স্থানীয় সাবেক এক সংসদ সদস্যের ছবি দেখা গেছে বলে দাবি করেন আসিফ মাহমুদ। ওই সংসদ সদস্যের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কী, তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি কোনো সাংগঠনিক, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকে, তবে আমরা মনে করব, তিনিও এই দখলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, দখল টিকিয়ে রাখা সম্ভব না হওয়ায় এখন সেখানে লোকদেখানো পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে জনগণ, গণমাধ্যম ও সচেতন মানুষের প্রতিবাদের মুখেই জায়গাটি আবার স্বাস্থ্যসেবার জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।