কেউ কথা রাখে না, তাই তিনি প্রার্থী

এই আসন থেকে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রচারে এগিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী।

জিতে গেলে ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কেউ রাখেন না—এ রকম যাতে আর না হয়, সে জন্য নিজেই প্রার্থী হয়েছেন মাকসুদুর রহমান। ছড়ি প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।

নির্বাচনী প্রচারের জন্য নিজের জমানো টাকা ও স্বজনদের থেকে পাওয়া কিছু সহায়তা দিয়ে লিফলেট করেছেন মাকসুদুর রহমান। ব্যানার–ফেস্টুন–বিলবোর্ডের প্রচারে তিনি নেই। তবে নিজেকে ‘শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী’ ভাবেন। এর কারণ হিসেবে তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাই ভোল্টেজ প্রার্থী যাঁরা, তাঁদের সবার দুর্নাম আছে। আর আমার আছে ক্লিন ইমেজ।’

এ আসনের আরেক প্রার্থী জেএসডির শাহানা সেলিম এলাকার মানুষকে ‘উদ্ধার’ করতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ‘তারা’ প্রতীকের এই প্রার্থী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকা-৭ আসনের মানুষ নানা সমস্যায় জর্জরিত। তাই মানুষকে উদ্ধার করতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি।’

ফান্ড (তহবিল) সংকটে ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ড করতে না পারলেও জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী শাহানা সেলিম। তাঁর এই আত্মবিশ্বাসের কারণ, প্রথমত, মানুষকে পরিবর্তনের আশ্বাস দিচ্ছেন তিনি। দ্বিতীয়ত, তাঁর পূর্বপুরুষেরা পুরান ঢাকার বাসিন্দা। সে কারণে নির্বাচনী এলাকার যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই মানুষ তাঁকে গ্রহণ করেছেন।

এ আসনের আরেক প্রার্থী মো. হাবিবুল্লাহ নিজেকে ‘শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী’ মনে করেন। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী, তাঁর প্রতীক বটগাছ। এই প্রার্থী প্রথম আলোকে বলেন, বিলবোর্ড-ফেস্টুন-ব্যানারের প্রচারণার চেয়ে তিনি ‘ডোর টু ডোর’ (মানুষের বাড়ি বাড়ি যাওয়া) বেশি যাচ্ছেন। এতে খরচও কম।

লালবাগ, চকবাজার, বংশাল ও কোতোয়ালি (আংশিক) থানা এলাকা নিয়ে ঢাকা-৭ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৭ জন।

এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান। নির্বাচনী এলাকার সর্বত্র তাঁর ব্যানার–ফেস্টুন–বিলবোর্ড রয়েছে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. এনায়াত উল্লা। তাঁরও ব্যানার–ফেস্টুন–বিলবোর্ড নির্বাচনী এলাকায় সর্বত্র রয়েছে। তাঁর পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান জনসভাও করেছেন।

এ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন (লাঙ্গল প্রতীক), ইসলামী আন্দোলনের মো. আবদুর রহমান (হাতপাখা), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) মো. শহিদুল ইসলাম (কাঁঠাল), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির শফিকুর রহমান (হাতি), বাসদ মার্ক্সবাদীর সীমা দত্ত (কাঁচি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক সরকার (ফুটবল)।

গত সোমবার এই সংসদীয় আসনের লালবাগ, আজিমপুর, বংশাল ও চকবাজার এলাকা ঘুরেছেন এই প্রতিবেদক। এসব এলাকায় ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার বিলবোর্ড-ফেস্টুন-ব্যানার বেশি দেখা গেছে। এর পাশাপাশি লাঙ্গল, হাতি, হাতপাখা ও কাঁচি প্রতীকের ব্যানার–ফেস্টুন–বিলবোর্ডও দেখা গেছে। বংশাল ও চকবাজার এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক সরকারের ফুটবল প্রতীকের ব্যানার দেখা গেছে।

ঢাকা–৭ আসনের ১০ জন ভোটারের সঙ্গে গত সোমবার কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁদের একজন লালবাগ এলাকার মুয়াজ্জিন হোসেন। তিনি বলেন, প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। নিজের পছন্দের এক প্রার্থীকে ভোট দেবেন তিনি।