ফখরুল বলেন, ‘বিদ্যুতের অবস্থা এখন কী, তা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন। এখন ঢাকায় এক–দুই ঘণ্টা করে লোডশেডিং হয়। সবচেয়ে মারাত্মক অবস্থা গ্রামাঞ্চলে, সেখানে এই মুহূর্তে সেচের খুব প্রয়োজন। সেখানে সাত–আট ঘণ্টা লোডশেডিং। সেচের জন্য বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। এর ফলে বন্যার পরে খাদ্য উৎপাদন প্রচণ্ডভাবে ব্যাহত হবে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আরেকটি বড় বিষয় হলো, বড় দুটি সারকারখানা বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন পর সেচের পানির জন্য এই বিদ্যুৎ বেশি প্রয়োজন হবে। তখন সমস্যাটা আরও বেশি হবে। সার–সংকটের কারণে খাদ্যশস্য উৎপাদন ব্যাহত হবে। এসব সমস্যা সরকার তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আবার নির্বাচনের ডামাডোল বাজতে শুরু করেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারি দলের মন্ত্রীরা, তাদের নেতারা নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা বলছেন। তাঁরা উন্নয়নের মিথ (কল্পকাহিনি) তৈরি করছেন। সেই ঢোল বাজানো হচ্ছে চারদিকে। এই ঢোল বাজিয়ে মানুষকে বিপথে পরিচালিত করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। জিডিপি বেড়ে যাচ্ছে। দারিদ্র্য কমে আসছে। কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক উল্টো।

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ তুলে বলেন, ‘এখানে মেগা প্রজেক্ট তৈরি হয়েছে। সেখানে মেগা দুর্নীতি হচ্ছে। দারিদ্র্যের হার বেড়ে ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। আগে ৪০–এর নিচে ছিল। এই তথ্য আমাদের নয়, সরকারের। সাধারণ মানুষের জীবন–জীবিকা নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে। চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।’

default-image

সরকার দেশকে কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ভয়ভীতির পরিবেশ সারা দেশের মানুষকে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় নিয়ে গেছে। তারা (সরকার)নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। সরকারের ওপর মানুষের আস্থা নেই।

তত্ত্বাবধায়ক বা নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে আবারও দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছেন। নিরপেক্ষ নির্বাচন ইস্যুতে সবাই যুগপৎ আন্দোলনে যেতে একমত হয়েছেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতা থেকে কেউ নিজে নিজে যায় না। তাদের ক্ষমতা থেকে সরাতে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা তাঁরা করছেন। সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ইত্যাদি দাবি না মানলে রাজপথেই একমাত্র সমাধান।

আয়োজক সংগঠনের সদস্যসচিব নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় মিট দ্য ওকাব অনুষ্ঠানে সংগঠনের আহ্বায়ক কাদির কল্লোলসহ ওকাবের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন