ঢাকার নারী প্রার্থীরা কে কত ভোট পেলেন, কারা ছিলেন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ২০টি আসনে মোট নারী প্রার্থী হয়েছিলেন ১৭ জন। কিন্তু তাঁদের কেউই জয়ী হননি। তবে প্রাপ্ত ভোটের দিক দিয়ে তিনজন দলীয় নারী প্রার্থী নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

ঢাকার নারী প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল। ঢাকা–১৯ আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৮৩। তাঁর চেয়ে ৬৫ হাজার ৬৯৩ ভোট বেশি পেয়ে এই আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। দিলশানা পারুল ছিলেন তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী।

ঢাকা–১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩২৩ ভোট। তিনি ছিলেন বিজয়ী প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী। এ আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মীর আহমাদ বিন কাসেম। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ১৩ ভোট।

নারীদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন ঢাকা–২০ আসনে এনসিপির প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ। তিনি নিকটতম প্রার্থী হিসেবে ভোট পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৭৮৭। এ আসনে জয়ী বিএনপির মো. তমিজ উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজার ৫০৪ ভোট।

এই তিন দলীয় নারী প্রার্থীর পর সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন ঢাকা–৯ আসনের প্রার্থী তাসনিম জারা। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছেন। জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্ততা, এনসিপিতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সচিব পদে থাকার পরও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দল নির্বাচনী জোটে যাওয়ার পর দল থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া, ক্রাউড ফান্ডিংয়ের (অনলাইনে বহু মানুষের কাছ থেকে অল্প অল্প করে অর্থ সংগ্রহ) মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যয়ের অর্থ সংগ্রহ ও স্বেচ্ছাসেবক নিবন্ধন, মাইক–লাউডস্পিকার ব্যবহার ছাড়া নির্বাচনী প্রচার নিয়ে তিনি ছিলেন আলোচনায়। তাসনিম জারার প্রাপ্ত ভোট ৪৪ হাজার ৬৮৪। ওই আসনে ভোটের লড়াইয়ে তাঁর অবস্থান ছিল তৃতীয়। এ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির হাবিবুর রশিদ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট।

নারী প্রার্থীদের মধ্যে এই চার প্রাথী পেয়েছেন বেশি ভোট

এবার নির্বাচনে মোট ৮৬ জন নারী প্রার্থী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৭ জন জয়ী হয়েছেন। তাঁরা হলেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম, ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, সিলেট-২ আসনের তাহসিনা রুশদীর (লুনা), নাটোর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফারজানা শারমিন, ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী নায়াব ইউসুফ আহমেদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। রুমিন ফারহানা বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ছিলেন।

ঢাকার অন্য নারী প্রার্থীদের ভোট

ঢাকা–১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্তরা সেলিম হুদা ৪ হাজার ৮৮০ ভোট পেয়েছেন। তিনি বিএনপির সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত নাজমুল হুদা ও আইনজীবী সিগমা হুদার মেয়ে। এ আসনে ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির খোন্দকার আবু আশফাক।

ঢাকা–৫ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল–বাসদের (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী শাহিনুর আক্তার সুমি পেয়েছেন ২২১ ভোট। এ আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কামাল হোসেন। তিনি পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৬৪১ ভোট।

ঢাকা–৭ আসনে দুজন নারী প্রার্থী ছিলেন। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের শাহানা সেলিম ২০৮ ভোট পেয়েছেন। বাসদ (মার্ক্সবাদী) সীমা দত্ত পেয়েছেন ৬৭৭ ভোট। এ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির হামিদুর রহমান। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬৬।

ঢাকা–৮ আসনে মডেল মেঘনা আলম পেয়েছেন ৬০৮ ভোট। তিনি গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী ছিলেন। এ আসনে ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির মির্জা আব্বাস।

ঢাকা–৯ আসনে তাসনিম জারার পাশাপাশি আরেকজন নারী প্রার্থী ছিলেন। তিনি হলেন গণফোরামের নাজমা আক্তার। তিনি পেয়েছেন ১৭১ ভোট।

ঢাকা–১০ আসনেও দুজন নারী প্রার্থী ছিলেন। জাতীয় পার্টির বহ্নি বেপারি ১ হাজার ৫৮০ ভোট পেয়েছেন। আর আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী নাসরিন সুলতানা পেয়েছেন ১ হাজার ১০৫ ভোট। এ আসনে বিএনপির শেখ রবিউল আলম ৮০ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

ঢাকা–১১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কহিনূর আক্তার বীথি পেয়েছেন ৭৯৪ ভোট। এ আসনে ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন এনসিপির নাহিদ ইসলাম।

আরও পড়ুন

ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আখতার পেয়েছেন ১ হাজার ৫১১ ভোট। তাঁর স্বামী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৬ আসন থেকে বিএনপি জোটের হয়ে জয় পেয়েছেন। ঢাকা–১২ আসনে আরেক প্রার্থী সালমা আক্তার পেয়েছেন ১৩৩ ভোট। তিনি ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী ছিলেন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সাইফুল আলম খান মিলন ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

ঢাকা–১৩ আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের তরুণ প্রার্থী ফাতেমা আক্তার মুনিয়া ৫১৩ ভোট পেয়েছেন। এই নির্বাচনে সবচেয়ে কম ২৫ বছর বয়সী যে তিনজন নারী প্রার্থী ছিলেন, তাঁর মধ্যে তিনি একজন। তিনি শিক্ষার্থী। এ আসনে ববি হাজ্জাজ ৮৮ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

ঢাকা–১৮ আসনে ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির প্রার্থী সাবিনা জাবেদ পেয়েছেন ৩০১ ভোট। এ আসনে ১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির এস এম জাহাঙ্গীর।