বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মহাসচিবের বিবৃতিটি প্রতিদিনের চিরাচরিত ভাষায় দেওয়া মিথ্যাচারে ভরপুর এবং অপরাজনীতির অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়। বিচারাধীন কোনো বিষয়ে মন্তব্য করা আইনসিদ্ধ নয়। কারও রাজনৈতিক পরিচয় কোনো হত্যাকারীর অপরাধকে আড়াল করতে পারে না। অপরাধী যে–ই হোক না কেন, তার বিচার হবেই।

যুবদল নেতা বদিউজ্জামানের হত্যার জন্য সরকারকে দায়ী করে গতকাল মঙ্গলবার বিবৃতি দিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। এতে তিনি বলেছিলেন, যশোর শহরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা দিনদুপুরে পৈশাচিকভাবে বদিউজ্জামানকে হত্যা করেছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তাঁর বিবৃতিতে আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার হয়েছে। অপরাধীরা শাস্তি পেয়েছেন। এমনকি সরকারদলীয় পদে থেকেও বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ত থাকার কারণে অনেকেই সাজা পেয়েছেন।

সহিংস রক্তপাতের মধ্য দিয়ে অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে—মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যগতভাবে আইনের শাসনের প্রতি পরিপূর্ণভাবে শ্রদ্ধাশীল। সাংবিধানিক বিধিবিধান অনুযায়ী নির্বাচন ছাড়া আওয়ামী লীগ কখনো দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেনি। দেশে সাংবিধানিক পন্থায় স্বেচ্ছায় শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের একমাত্র নজির সৃষ্টি করেছেন শেখ হাসিনা।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সপরিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রক্ষায় প্রথমে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ এবং পরে তা আইনে পরিণত করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথকে রুদ্ধ করেছিলেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা দ্বিতীয় আর একটি নেই।

স্বৈরাচার জিয়ার উত্তরাধিকার হিসেবে খালেদা জিয়াও একইভাবে ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে অগণিত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে হত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। এ বিষয়ে বিবৃতিতে তিনি বলেন, ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একুশে আগস্টের মতো ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা হয়েছিল বিএনপি আমলে।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন