বিমানবন্দরে পৌঁছালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্থানীয় বিএনপির নেতারা স্বাগত জানান। এরপরে বিমানবন্দর থেকে বিএনপি মহাসচিব প্রথমে হজরত শাহপরান (রহ.) মাজার এবং পরে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করতে যান। মাজার জিয়ারত শেষে মির্জা ফখরুল সমাবেশস্থলে পৌঁছেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৪/১৫ বছরের অবৈধ শাসনের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাঠামোকে বিনষ্ট করেছে। অর্থনীতিকেও করেছে ধ্বংস তারা। সাধারণ মানুষকে বিপদগ্রস্ত করেছে। মানুষের জীবনযাপন করাই এখন দুঃসহ হয়ে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। তাই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন এখন একমাত্র দাবি। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে কোনো নির্যাতন, কোনো ফ্যাসিবাদ টিকে থাকবে না। জনগণের বিজয় অবশ্যই হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সময় আরও বলেন, বর্তমান সরকার রিজার্ভ (বৈদেশিক মুদ্রার মজুত) নিয়ে সমস্যা তৈরি করেছে। তারা ব্যাংকিং খাত ধ্বংস করে দিয়েছে। সামগ্রিক অর্থে দেশে এখন একটা দুঃসময় চলছে। এ জন্য দায়ী এই অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকার। আর এ কারণে আমরা আন্দোলন গড়ে তুলেছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে চার বছর ধরে আটক করে রেখেছে। ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েও তারা ক্ষান্ত হয়নি। তারা জনগণের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা দিচ্ছে। জনগণকে জিম্মি করে রেখেছে। আমাদের বিপন্ন করার চেষ্টা করছে। পুলিশ দিয়ে, গুন্ডা বাহিনী দিয়ে হামলা করছে। তারপরও কিন্ত মানুষ দমে যাচ্ছে না। আপনারা দেখেছেন, এখানে মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশের আগেই হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছেন।

বিএনপির প্রথম গণসমাবেশ করে গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামে। এরপর ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও ফরিদপুরে গণসমাবেশ করেছে বিএনপি। এর মধ্যে ময়মনসিংহ ছাড়া বাকি সব স্থানে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। ময়মনসিংহে গণসমাবেশের আগে অঘোষিত ধর্মঘট পালিত হয়; গণসমাবেশের দিনে গণপরিবহন বন্ধ ছিল সেখানে। একইভাবে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে শুক্রবার থেকে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট জেলায় শনিবার সকাল-সন্ধ্যা পরিবহন ধর্মঘট পালনের ঘোষণা এসেছে। তবে পরিবহন ধর্মঘট উপেক্ষা করেই মানুষজন গণসমাবেশে যোগ দিতে সিলেট শহরে আসছেন।

গান-স্লোগানে মুখর সমাবেশস্থল

শুক্রবার দিবাগত রাত একটায় সরেজমিনে দেখা যায়, জাতীয়তাবাদী সামাজিক–সাংস্কৃতিক সংস্থার ব্যবস্থাপনায় সমাবেশের মঞ্চে সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার অঞ্চলের শিল্পীরা দেশাত্মবোধক, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিসহ বিভিন্ন বিষয়ে রচিত গান পরিবেশন করছেন।

জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) দুন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার রাত পৌনে ১২টা থেকে সমাবেশ মঞ্চে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হয়েছে। সিলেট বিভাগের শতাধিক শিল্পী রাতভর গান পরিবেশন করবেন। তবে গান পরিবেশনের ফাঁকে ফাঁকে স্লোগান দিয়েও নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করা হয়।