সংস্কার পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দল। আজ শনিবার বিকেলে ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ১১ দল আয়োজিত এক সমাবেশে বলা হয়, সংস্কার এড়িয়ে গিয়ে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে এর পরিণতি বিএনপি সরকারকে ভোগ করতে হবে।
‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থানের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে’ আয়োজিত এই সমাবেশে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সংস্কার পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবে বিরোধী দল। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বিএনপি গণভোটকে অবজ্ঞা করেছে, জাতিকে অপমান করেছে। তিনি বলেন, ১১ দল বাংলাদেশে ইতিবাচক রাজনীতি করবে। সরকার জনস্বার্থে কাজ করলে সহযোগিতা করা হবে। তবে সরকার জনস্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে রাজপথে ও সংসদে প্রতিবাদ করা হবে।
সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে যেগুলো সরকারের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করে, সেসব অধ্যাদেশ বিএনপির পছন্দ। আর যেসব অধ্যাদেশ জাতির কাছে জবাবদিহি বাধ্য করে, সেগুলো তাদের খুব অপছন্দ। বিএনপি এখন যে রাজনীতি করছে, সেটি সুবিধাবাদের রাজনীতি।
বিএনপি গণভোটের জনরায়কে ‘হাইকোর্ট’ দেখাতে চাইলে জনগণ রাজপথে তাদের মোকাবিলা করবে উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষের মতের বিপক্ষে গিয়ে বিএনপি ক্ষমতার মসনদে টিকতে পারবে না।
বিএনপির উদ্দেশে মামুনুল হক বলেন, ‘আপনাদের ভুলের খেসারত আমাদের দিতে হয়েছে ২৫ বছর পর্যন্ত। গুম, খুন আর হত্যার রাজনীতির শিকার হতে হয়েছে। তাই আমরা চাই ভালোয় ভালোয় দেশ পরিচালনা করেন, জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। অন্যথায় রাজপথে, সংসদে আমরা আপনাদের মোকাবিলা করব।’
এ সমাবেশে বিএনপির উদ্দেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করা বৈধ আর জনগণের ভোটে সংস্কার হবে, সেটাকে বলে অবৈধ—এমন দ্বিচারিতা বাংলাদেশের মানুষ সহ্য করবে না। দেশের রাষ্ট্রকাঠামো, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক ব্যক্তির করায়ত্তে রাখতে চায় বলেই বিএনপি সংস্কার চায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপি যে পথে হাঁটছে, সেটি ফ্যাসিবাদের পথ, এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, যে জুলাই বিপ্লব সবাইকে নতুন জীবন দান করল, সেই বিপ্লবকে অস্বীকার করার মানে নতুন জীবনকে অস্বীকার করা। তারা (বিএনপি) আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদী কায়দায় এক ব্যক্তির কাছে সব ক্ষমতা দিতে চায়।
এ টি এম আজহার বলেন, তাঁদের এই আন্দোলন কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়, জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার বিপক্ষে এই আন্দোলন। যারা একজন মানুষের কাছে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মাধ্যমে জোর করে ক্ষমতায় থাকার চিন্তা করছে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মুখলেসুর রহমান কাসেমী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম। সমাবেশে সঞ্চালক ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবসহ কয়েকজন। উপস্থিত ছিলেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানসহ (ইরান) ১১ দলের শীর্ষ ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ১১ দলের নেতা–কর্মীরা। মিছিলটি কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে ‘এই মুহূর্তে দরকার, সংস্কার, সংস্কার’, ‘জুলাই নিয়ে টালবাহানা, চলবে না, চলবে না’, ‘জুলাই সনদ মানে না যারা, স্বৈরাচারের দোসর তারা’, ‘বাংলাদেশের শত্রু তারা, গণভোট মানে না যারা’, ‘জুলাই সনদের বিরোধীরা, হুঁশিয়ার–সাবধান’—এ রকম বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।