ডিএমপির একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের থানা, ওয়ার্ড ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন কমিটির সদস্য এবং পাড়া-মহল্লা পর্যায় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা-কর্মীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা করা হচ্ছে। বড় দল হিসেবে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নামের তালিকা তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ডিএমপির মাঠপর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে অনেক মামলা হয়। কোনো কোনো মামলায় মৃত ব্যক্তি এবং বিদেশে রয়েছেন এমন নেতা-কর্মীদেরও আসামি করা হয়েছিল। এ নিয়ে তখন অনেক সমালোচনা ও প্রশ্নের মুখে পড়েছিল পুলিশ। থানায় যদি নেতা-কর্মীদের পদ–পদবিসহ হালনাগাদ তথ্য এবং মুঠোফোন নম্বর তথ্য থাকে, তাহলে সামনে এ ধরনের ভুল এড়ানো যাবে। এমনিতে প্রতিটি থানায় রাজনৈতিক দলগুলোর সংশ্লিষ্ট এলাকার নেতা-কর্মীদের তালিকা রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে সেই তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নতুন কমিটি হচ্ছে। কমিটিতে থাকা নেতা-কর্মীরা কে কোথায় থাকেন,সেই তথ্য হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, গত জুলাই মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম পুলিশের আটটি অপরাধ বিভাগ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার (ডিসি), অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি), সহকারী কমিশনার (এসি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের এই তালিকা করার নির্দেশনা দেন।

নির্দেশনায় বলা হয়, পাড়া-মহল্লাভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের চিহ্নিত করে তাঁদের ব্যাপারে আগাম তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিটি থানায় মহল্লাভিত্তিক কমিটির তালিকা সংগ্রহ করতে হবে।

কমিটির সদস্যদের পদ, পদবি, নাম ও মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহে রাখতে হবে। কোনো নাশকতার ঘটনা ঘটলে যাতে সঙ্গে সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এ ছাড়া যেসব মসজিদ থেকে রাজনৈতিক ও উসকানিমূলক মিছিল বের হয়, সেসব মসজিদের তালিকা করতে হবে।

এই বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এই সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে যদি পুলিশ এমন তালিকা করে থাকে, তাহলে তাদের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা আরও বাড়বে।