সংসদে কোনো ‘গেম’ নেই: চিফ হুইপ
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেছেন, সংসদে কোনো খেলা নেই, গেমও নেই। সরকার এমন বিরোধী দল চায়, যারা যৌক্তিক বিষয়ে সহযোগিতা করবে, আবার প্রয়োজন হলে সরকারের সমালোচনা করবে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ এ কথা বলেন।
সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। বাজেট আলোচনায় বিএনপির এক সংসদ সদস্য মেসি ও রোনালদোর ‘ফ্রেন্ডলি গেমের’ উদাহরণ টেনে বলেছেন, ‘পার্লামেন্টে যে গেমটা হচ্ছে, এই গেমটা চললে কিন্তু কিছুদিন পরে মাঠ খালি পড়ে থাকবে।’ সংসদে এ রকম কোনো ‘ফ্রেন্ডলি গেম’ চলছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ‘রোনালদো আর মেসি ফুটবল খেলায় আছে, বিশ্বকাপে। আর বাংলাদেশের পার্লামেন্টে ডক্টর শফিকুর রহমান অপজিশনে (বিরোধী দলে) আর তারেক রহমান পজিশনে (সরকারি দলে)। এখানে কোনো খেলা নাই, গেমও নাই। কেউ যদি বলে থাকে, সেটা তার ব্যক্তিগত মতামত।’
চিফ হুইপ বলেন, মানুষ চায়, সরকারি ও বিরোধী দল ঐক্যবদ্ধভাবে সমস্যা সমাধান করুক। তিনি বলেন, তাঁরা চান, বিরোধী দল যৌক্তিক বিষয়ে সহযোগিতা করবে, আবার প্রয়োজন হলে সরকারের সমালোচনাও করবে। যেটা ‘জেনুইন’, সেটাতে তাঁরা সরকারের পাশে থাকবেন। যেটা ‘জেনুইন’ নয়, সেটাতে সমালোচনা করবেন যাতে সরকার সংশোধন করতে পারে।
চিফ হুইপ বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী দলের কাজ সব সময় সরকারের বিরোধিতা করা নয়। কারণ, বিরোধী দলও একদিন সরকারে যেতে পারে। তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে চায়।
এবারের বাজেটের প্রশংসা করে চিফ হুইপ বলেন, স্বাধীনতার পর এমন জনকল্যাণমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ বাজেট আর কখনো প্রণীত হয়নি। বাজেট ঘোষণার আগে বা পাসের পরে বাজারে দাম বাড়েনি। বাজেটের পর কোনো বিক্ষোভ হয়নি।
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল সদস্য না দিলে, তাদের ছাড়াই কমিটি করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, সংস্কারের প্রশ্ন থাকলে সংসদের বাইরে সরকার, বিরোধী দল ও অন্য দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হতে পারে। আর সংবিধান সংশোধনের কাজ সংসদের ভেতরে চলবে।
ভারতের ‘পুশ ইন’ নিয়ে বিরোধী দলের আনা একটি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নে চিফ হুইপ বলেন, প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘পুশ ইন’ জাতীয় সমস্যা। অন্য দেশের মানুষ বাংলাদেশে আসুক, তা কেউ চায় না।
বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করা হচ্ছে, আইন প্রণয়নের সময় বিলগুলো দেরিতে দেওয়া হচ্ছে, এমন কথার জবাবে চিফ হুইপ বলেন, চলতি অধিবেশনে আনা তিন-চারটি বিল সময়মতো দেওয়া যায়নি। তবে বিল পাসের আগে সদস্যদের পড়া, আলোচনা ও বিশ্লেষণের সুযোগ দিতে সময় রাখা হয়েছে।
সংসদীয় কমিটি গঠনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যে সংসদীয় কমিটিগুলো গঠন সম্পন্ন করতে হয়। এখন দ্বিতীয় অধিবেশন চলছে। এখনো সে সময় শেষ হয়নি।
সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্য ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে দুই সপ্তাহ অনুপস্থিত ছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। তথ্য দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বিরোধী দল বা সরকারি দল যে–ই হোক, কেউ যাতে অপমানিত বোধ না করেন, সে চেষ্টা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।