জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মানুষ কষ্টে আছে উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জনগণের এই দুর্দশার মধ্যে মাঠে না নামলে জনগণ তা ভালো চোখে দেখবে না। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা সরকারের বিরুদ্ধে হরতাল দিচ্ছি না এখন। অনেক বছর হয়ে গেছে। ভুলে গেছি, তাই না। হরতাল তো সাংবিধানিক অধিকার। হরতাল দেব না তা তো বলি নাই।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘অবরোধ সাংবিধানিক অধিকার। অবরোধ অনেক দিন করি না। করব না, এমন কথা তো দিই নাই। আপনারা কি হরতাল করতে রাজি না? অবরোধ করতে রাজি না? চট্টগ্রাম বন্দরকে বন্ধ করতে পারবেন না?’

মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারকে বলব, কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন, তার ঠিকানা আগেই বুকিং দেন।’ তিনি বলেন, জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও এই সরকারের মূল্য প্রতিদিনই কমছে।

‘শর্টকাট’ আন্দোলন করলে এ সরকার নদীর পানিতে ভেসে যাবে বলে মন্তব্য করে বিএনপির নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আজকে ওবায়দুল কাদের মশকরা করেন। বলেন, আন্দোলন করার মতো বিএনপির কোনো ক্ষমতা নেই। বিএনপির ক্ষমতা আছে কি নেই তা ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে টের পান নাই? আন্দোলন করলে এই সরকার হাবুডুবু খাবে। তীরে ওঠার কূলকিনারা পাবে না।’

দেশে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বলেন, ‘দেশ থেকে টাকা পাচারে সরকারের লোকজন জড়িত। সরকারের বাই-চান্স এমপি-মন্ত্রীরা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।’

ব্যাংকে টাকা নেই উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, ‘সরকারের আয় নেই। রিজার্ভের টাকা খরচ করছে। আইএমএফ শুধু রিজার্ভের পরিমাণ জানতে চেয়েছে। সরকার যা আছে তার চেয়ে বেশি বলে।’ বিদ্যুৎ খাতে ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব আবুল হাশেম ও যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সভাপতি এম এ নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন