মামুনুল হকসহ কারাবন্দী হেফাজত নেতাদের মুক্তি দাবি

রাজধানীর পুরানা পল্টনের একটি রেস্তোরাঁয় আজ সোমবার ইফতার অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলামের নেতারা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে মামুনুল হকসহ কারাবন্দী হেফাজত নেতাদের মুক্তি দাবি করেছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। মাওলানা মামুনুল হকসহ কারাবন্দী উলামায়ে কেরামের মুক্তি কামনায় ‘শায়খুল হাদিস পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন পুরানা পল্টনের একটি রেস্তোরাঁয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন বলেছেন, ‘আমরা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিস্তারিত তালিকা দিয়েছি। কার নামে কী মামলা, কোথায় আছেন, কেমন আছেন—সবিস্তারে। প্রথমে নাম ছিল মাওলানা মামুনুল হকের। আমরা কারাগারে তাঁদের ন্যায্য অধিকার দাবি করেছি, কোনো করুণা নয়।’

সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, ‘মনে করবেন না, হেফাজতে ইসলাম আন্দোলন করতে জানে না। আন্দোলন করার অভিজ্ঞতা হেফাজতের রয়েছে। আমাদের মহাসচিব ঘোষণা করেছেন, আমাদের রাজপথে আন্দোলনে বাধ্য করবেন না। আপনারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। নয়তো দেখা হবে, ইনশা আল্লাহ।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মধুপুরের পীর মাওলানা আবদুল হামিদ বলেন, ‘ঈদের আগে রমজানের মধ্যেই মাওলানা মামুনুল হকসহ কারাবন্দী আলেমদের মুক্তি দিলে সরকার ও দেশের জন্য ভালো হবে। উলামায়ে কেরাম নির্দোষ। তাঁদের মুক্ত করে দিয়ে নাস্তিকদের পক্ষ পরিহার করুন। অন্যথায় এ দেশের তৌহিদি জনতা আপনাদের সমুচিত জবাব দেবে।’

মামুনুল হকের বড় ভাই মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘আল্লাহর পছন্দনীয় প্রায় সব বান্দাই জেল খেটেছেন। ভারতবর্ষের প্রায় সব আকাবির (পূর্বসূরি) জেল খেটেছেন। এটা স্বাভাবিক বিষয়, এটা আলোচনার বিষয় নয়। বরং আলোচনা করতে হবে, আমাদের যে দায়িত্ব ছিল কারাবন্দীদের প্রতি, কারাবন্দীদের পরিবারের প্রতি, আমরা সে দায়িত্ব কতটুকু পালন করলাম। সে চেতনা জাগিয়ে তুলতে চায় শায়খুল হাদিস পরিষদ।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মাওলানা তাফাজ্জুল হক আজিজের সভাপতিত্বে ইফতার অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমান, শায়খুল হাদিস পরিষদের সহসভাপতি মাহবুবুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, তাফাজ্জুল হোসেন, ইসলামি লেখক রুহুল আমিন সাদি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শায়খুল হাদিস পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মুমিন ও এহসানুল হক।