গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিপুলভাবে জয়ী না হলে সবকিছু প্রশ্নের মুখে পড়বে: চরমোনাই পীর
গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর জয় নিশ্চিতে অন্তর্বর্তী সরকার, রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিপুলভাবে জিততে না পারলে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ সবকিছু প্রশ্নের মুখ পড়বে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। আজ রোববার এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দেন তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রস্তাব এসেছে, গণভোটে তা গ্রহণ-বর্জনের সিদ্ধান্ত দেবেন দেশের ১২ কোটির বেশি ভোটার।
বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনসহ জাতির দেশ গড়ার যে সুবর্ণ সুযোগ আমরা এখন পাচ্ছি, তার পুরো কৃতিত্ব ২০২৪–এর জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের। চব্বিশের জুলাইয়ে আমাদের তরুণ শিক্ষার্থী ও জনতা রাজপথে জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছিল বলেই আমরা ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি।’
আওয়ামী ফ্যাসিবাদ উৎখাত হলেও ফ্যাসিবাদী আইন-রীতি ও সংস্কৃতি উৎখাত হয়নি বলে সতর্ক করেন চরমোনাই পীর। তিনি বলেন, দেশ থেকে ফ্যাসিবাদের স্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে বাঁচিয়ে রাখতে ‘হ্যা’-কে জয়যুক্ত করতেই হবে।
জুলাই সনদের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেশের সব রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, জুলাই সনদের পক্ষে বিপুল জনসমর্থন প্রদর্শিত না হলে অন্তর্বর্তী সরকার, সংসদ নির্বাচনসহ সবকিছুই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে জনতা কেবল নির্বাচনের জন্য জীবন দেননি; বরং একটি মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে রাজপথে লড়াই করেছেন। জুলাই সনদে সেই প্রত্যাশা পুরোটা না হলেও বহুলাংশে সন্নিবেশিত হয়েছে।
গণভোট ও সংসদ নির্বাচন আলাদাভাবে চেয়েছিল ইসলামী আন্দোলন। তা তুলে ধরে চরমোনাই পীর বলেন, সে দাবি উপেক্ষা করার পরিণতিও দেখা যাচ্ছে। জুলাই সনদের আলোচনা রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছে। এটা হতাশার। জুলাই সনদের আলোচনা জারি রাখতে হবে।
সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য জননিরাপত্তার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি। এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।