ঈদ আসবে শুনিয়েও ঈদের চাঁদ উঠল না: মামুনুল হক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এ সময় অনেকে শুধু বাংলাদেশের মানুষকে ঈদের কথা শোনাতো। বলত, ঈদ আসবে, ঈদ আসবে, ঈদ আসবে। কিন্তু প্রায় ১৭ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে ঈদের চাঁদ উঠল না।’
আজ রোববার রাজধানী ঢাকার মেরুল বাড্ডায় ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মামুনুল হক এ কথা বলেন।
এই নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
মামনুল হক আরও বলেন, যখন মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়, তখন স্কুল থেকে সোনামনিরা বেরিয়ে আসে, কলেজ থেকে তরুণ প্রজন্ম বেরিয়ে আসে। আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বিভেদের দেয়াল ভেঙে রাজপথে নেমে আসে। পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাজপথে নেমে আসে। চার কোটি ছাত্র-জনতা হাতে হাত রেখে বিপ্লবের ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলেছিল এই নাহিদ ইসলামদের নেতৃত্বে। জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। নতুন স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছে।
২৪–পরবর্তী বাংলাদেশের মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা ও অভিপ্রায়, যারা সেটিকে সম্মান জানাতে পারে না, বাংলাদেশের মানুষ তাদের কোনো দিন গ্রহণ করবে না—বলেন মামুনুল হক। তিনি আরও বলেন, ‘দেশের জনগণ বিগত দিনের রাজনীতির কাঁধে সওয়ার হওয়া দুই ভূতকে বিদায় করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। প্রথম ভূত হলো, রাজনীতি থেকে গুন্ডামি–সন্ত্রাসকে বিদায় করা। দ্বিতীয় ভূত হলো, রাজনীতি থেকে লুটপাট–দুর্নীতিকে চিরতরে বিদায় করা।’
দেশের মানুষ দীর্ঘদিন শোষণ ও বঞ্চনার শিকার উল্লেখ করে মামুনুল হক আরও বলেন, ‘শাসকের গায়ের চামড়ার রং পরিবর্তন হয়েছে, জাত পরিবর্তন হয়েছে, ভাষা পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা, অধিকার ছিনতাইয়ের শাসনে কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘স্বাধীনতার আগে শাসকেরা বাংলাদেশ থেকে সম্পদ লুট করে নিজেদের দেশে নিয়ে যেত। আর স্বাধীনতার পর দেশীয় শাসকেরা জনগণের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। যারা দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে বেগম পাড়া করেছে, তারা জনগণের সঙ্গে আরও বড় গাদ্দারি করেছে।’