নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে নিরীহ নাগরিক ও ভোটাররা সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। জামায়াত, ১১–দলীয় জোটের সমর্থক, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির মতের সঙ্গে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান রাখার কারণে এসব সহিংসতা ঘটেছে বলে জানান তিনি।
এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ভুক্তভোগীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন শফিকুর রহমান।
আজ শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এ কথা জানিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে জামায়াতের আমির আরও লিখেছেন, সদ্য গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করা জাতির বুকে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো স্থান নেই। জুলাই বিপ্লব এখনো জীবিত উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের মানুষ একবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। আবারও ভয়–ভীতির অন্ধকারে ফিরে যাবে না।
এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন জামায়াত আমির। পোস্টে তিনি লিখেছেন, দ্রুত ও দৃশ্যমান আইন প্রয়োগই পারে পরিস্থিতির অবনতি থেকে রক্ষা করতে এবং নিশ্চিত করতে। কোনো নাগরিক যেন বিকল্প উপায়ে নিরাপত্তা খুঁজতে বাধ্য না হন। প্রতিটি ঘটনা যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও রেকর্ড করতে হবে।
নির্বাচিত সংসদ সদস্য, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত আমির। ছবি ও ভিডিওসহ সব তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জমা দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার কথাও বলা হয়েছে ফেসবুক পোস্টে।
আসন্ন সরকারের উদ্দেশে ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘জনগণের ম্যান্ডেট কোনো লাইসেন্স নয়; এটি একটি শর্তযুক্ত আমানত। এই আমানতের মূল শর্ত হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সবার জন্য সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক পরিচয়–নির্বিশেষে প্রতে৵ক নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদান। সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় নিজের দল ও কর্মীদের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।’
এ দেশে আর কখনো ভয়, দমন-পীড়ন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেওয়া হবে না বলে ওই পোস্টে লিখেছেন জামায়াত আমির।