বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ‘স্পর্ধিত তারুণ্যের প্রতিচ্ছবি শেখ কামাল’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বক্তব্যের শুরুতেই মন্ত্রী শহীদ শেখ কামালের স্মৃতিচারণা করেন। তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ছিলেন অনবদ্য ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠক। যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন শেখ কামাল প্রতিটি তরুণের অন্তরে তারুণ্যের শক্তি হয়ে বেঁচে থাকবেন।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মূল্যবৃদ্ধির পর ডিজেলের দাম এখন প্রতি লিটারে ১১৪ টাকা, এ দেশি মুদ্রামানে ভারতের কলকাতায় ১১৪ টাকা, সর্বভারতীয় মূল্য ১১২ টাকা, চীনে ১১৮ টাকা, জ্বালানি রপ্তানিকারী দেশ আরব-আমিরাতে লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম ১২৩ টাকা, নেপালে ১২৭ দশমিক ৮২ টাকা, ইন্দোনেশিয়ায় ১৩৮ দশমিক ২৪ টাকা, সিঙ্গাপুরে ১৮৯ দশমিক ৭৮ টাকা, হংকংয়ে ২৬০ দশমিক ৭৫ টাকা। অর্থাৎ আমাদের দেশে মূল্য সমন্বয়ের পরও আশপাশের এসব দেশের চেয়ে মূল্য কম ও ভারতের সমান রয়েছে।

পরিবহন খাতে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবের বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, একটি ৫০ সিটের বাসে ৭০% যাত্রী থাকলে প্রতি কিলোমিটারে মূল্যবৃদ্ধি ঘটবে মাত্র ২৯ পয়সা।

এখন যাত্রীপ্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৮০ পয়সা ভাড়া নেওয়া হয়, এখন ২৯ পয়সা বেড়ে হবে ২ টাকা ৯ পয়সা। সরকার শিগগির পরিবহন খাতের সবাইকে নিয়ে বসবে, যাতে কেউ অন্যায় সুযোগ না নিতে পারে। মন্ত্রী এ সময় ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদেরকে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঠিক তথ্য নিয়ে সরব হওয়ার আহ্বান জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ এবং যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন। বিশেষ বক্তা ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

শোক দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রামের সভা

এদিন বিকেলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জাতীয় শোক দিবস সামনে রেখে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ড আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হাজার বছরের ঘুমন্ত বাঙালির হৃদয়ে জাতিসত্তার চেতনা জাগ্রত করে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রচনা করেছেন এবং দেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন, অকাতরে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। এ জন্যই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি এবং আমাদের জাতির পিতা। শুধু তা–ই নয়, তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে অনন্য।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারীরা শুধু তাঁকে নয়, আমাদের স্বাধীনতাকে হত্যা করতে চেয়েছিল উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, আজ বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করছেন। আমাদের সবাইকে বঙ্গবন্ধুকন্যার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ ও কর্মপ্রাণ থাকতে হবে।

চট্টগ্রাম মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি আলী আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন