জ্ঞানচর্চার জায়গায় তারা কেন রক্ত ঝরানোর জন্য যাবে: ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ নিয়ে জামায়াত আমির
চট্টগ্রামে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এটা দুঃখজনক। সারা বাংলাদেশের চিত্র এক রকম নয়। তবে সামান্য কোনো জায়গায়ও এটা ঘটুক, এটা আমরা কামনা করি না। ওখানে যাবে তারা জ্ঞানের চর্চার জন্য, ওখানে যাবে কেন তারা রক্ত ঝরানোর জন্য?’
আজ বৃহস্পতিবার সকালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালে মিরপুর-১০ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, কাজীপাড়া সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসা ও শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন শফিকুর রহমান। এর মধ্যে আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই রক্ত যারই ঝরুক, সে তো আমারই সন্তান। আমি দেখতে চাই না যে ও কোন দলের। যারই রক্ত ঝরবে, এটা দুঃখজনক। মা-বাপ কাউকে রক্ত ঝরানোর জন্য ওখানে পাঠায়নি, মানুষ হওয়ার জন্য পাঠিয়েছে। তো সেই মানুষ হওয়ার আঙিনায় অমানুষের কাজ কেউ করুক, এটা আমরা নিন্দা জানাই। আমরা এটা চাই না। এই ব্যাপারে আমরা ভোকাল (সোচ্চার) থাকব। এই ব্যাপারে আমাদের যা করার, আমরা করব।’
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে পরীক্ষার হলে গিয়েছে। তারা যাতে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করতে পারে, তিনি সেই দোয়া করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মেধার যত বিকাশ ঘটবে, জাতি তত এগিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে সরকারকে দেশ পরিচালনায় রাজনীতিকে নয়, মেধাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
এর আগে পরিদর্শনের সময় জামায়াতের আমির পরীক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজখবর নেন এবং তাদের সুস্থতা ও ভালোভাবে পরীক্ষা দিয়ে সফলতার জন্য দোয়া করেন। এ সময় তিনি কেন্দ্রসচিবকে পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে পরামর্শ দেন এবং পরীক্ষাকালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা। পরে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে থাকা অভিভাবক এবং তৃষ্ণার্তদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়।