১৮ এপ্রিলকে ‘জাতীয় যুব দিবস’ ঘোষণার দাবি

চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ যুব ফ্রন্ট। টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ১৮ এপ্রিল ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ দিবস ১৮ এপ্রিলকে ‘জাতীয় যুব দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ যুব ফ্রন্ট। ওই বিদ্রোহের ৯৬তম বার্ষিকী স্মরণে যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভা থেকে এ দাবি জানানো হয়।

শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভার শুরুতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের জন্য তৈরি বেদিতে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি এক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংগঠন দুটির নেতা–কর্মীরা। পরে শহীদদের উৎসর্গ করে সংগীত পরিবেশন করা হয়।

যুব ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক রাশেদ শাহরিয়ারের সভাপতিত্বে ও ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রগতি বর্মণের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন বাসদের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য জয়দীপ ভট্টাচার্য, যুব ফ্রন্টের ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক রবিউল করিম, ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ প্রমুখ।

আলোচনা সভায় আলোচকেরা ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রামে সংগঠিত ব্রিটিশবিরোধী বিদ্রোহের ইতিহাস ও গুরুত্ব পর্যালোচনা করেন।

বাসদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘ইতিহাসে আমরা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের দুটি ধারা দেখি—একটি আপসহীন বা সশস্ত্র বিপ্লবী ধারা, অন্যটি আপসকামী বা অহিংস ধারা। কিন্তু আমাদের ইতিহাসের পাঠ্যে আপসহীন সশস্ত্র ধারাকেই অনেক সময় “সন্ত্রাসবাদী” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর আপসকামী ধারাকে “অহিংস আন্দোলন” হিসেবে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এটি একটি একপক্ষীয় ও বিকৃত উপস্থাপন। বাস্তবতা হলো ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে প্রকাশ্য ও সশস্ত্র লড়াই ছিল একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান, যা স্বাধীনতাসংগ্রামকে ত্বরান্বিত করেছে।’

শান্তি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অশান্তি মানেই অকল্যাণ নয় উল্লেখ করে জয়দীপ ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে হঠাতে আমাদের কত প্রাণ দিতে হয়েছে, কতখানি রক্ত দিতে হয়েছে। পরিবর্তন জিনিসটা এমনই। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময়ও আন্দোলন করে অশান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে প্রচার করা হতো। ফলে অশান্তি মানেই অকল্যাণ ছিল না; বরং এটা দেশের মধ্যে কল্যাণ বয়ে নিয়ে এসেছে।’

যুব ফ্রন্টের ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক রবিউল করিম নান্টু বলেন, ‘বাংলাদেশের যুবকদের মর্যাদা নিয়ে দাঁড়াতে হলে এবং বিশ্বব্যাপী যে অপশাসন, দুঃশাসন, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন; তা হঠাতে হলে আমাদের মাস্টারদা সূর্য সেনকে স্মরণ করতে হবে এবং তাঁর আদর্শ জাগরূক রাখতে হবে।’ তিনি ১৮ এপ্রিলকে ‘জাতীয় যুব দিবস’ ঘোষণা করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।

ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান বলেন, ‘চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের ১৮ এপ্রিলের ঘটনাপ্রবাহ আমাদের সংগ্রামী ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। সূর্য সেনের নেতৃত্বে ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি গঠন, তাঁর দীর্ঘ প্রস্তুতি এবং স্কুলপড়ুয়া কিশোরদের অকুতোভয় অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে এটি ছিল এক অসাধারণ সাহসিকতার দৃষ্টান্ত।’

সভাপতির বক্তব্যে যুব ফ্রন্টের আহ্বায়ক রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, এই বিদ্রোহ একটি ঘটনার স্মৃতি নয়, এটি এ দেশের মানুষের মুক্তির লড়াইয়ের ধারাবাহিকতার অংশ। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী গণ–আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণ–অভ্যুত্থান—সবকিছুই একই ধারার বহিঃপ্রকাশ।