রাজধানীর ১৫টি আসন
নারী প্রার্থীদের ইশতেহারে নাগরিক সংকট সমাধানের অঙ্গীকার
১৪ নারী প্রার্থীর ১০ জন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দুজন দলের ইশতেহার প্রচার করে ভোট চাইছেন। অন্য দুজন ইশতেহার প্রকাশ করেননি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর ১৫টি আসনে এবার ১৪ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চারটি আসনে দুজন করে ও ছয়টি আসনে একজন করে নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর পাঁচটি আসনে কোনো নারী প্রার্থী নেই।
ভোটারদের কাছে টানতে এই প্রার্থীদের ১০ জন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দুজন প্রার্থী দলের ইশতেহার প্রচার করে ভোট চাইছেন। অন্য দুজন এখনো কোনো ইশতেহার প্রকাশ করেননি।
বিভিন্ন দলের হয়ে ও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রার্থীদের ইশতেহারে নাগরিক জীবনের প্রায় একই সংকট উঠে এসেছে। ইশতেহার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেশির ভাগ প্রার্থী মাদক ও চাঁদাবাজি দমন, নারীর নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি, যানজট নিরসন, গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের সংকট ও জবাবদিহির মতো বিষয়ে তাঁদের প্রতিশ্রুতিতে গুরুত্ব দিয়েছেন।
প্রার্থীদের মধ্যে যাঁরা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন, তাঁরা হলেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা (ফুটবল), ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম (ধানের শীষ), ঢাকা-৭ আসনের বাসদের (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী সীমা দত্ত (কাঁচি), ঢাকা-৮ আসনে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মেঘনা আলম (ট্রাক), ঢাকা-১০ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী নাসরীন সুলতানা (ঈগল), ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার (মাথাল), ঢাকা-৯ আসনে গণফোরামের প্রার্থী নাজমা আক্তার (উদীয়মান সূর্য), ঢাকা-১১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কহিনূর আক্তার বীথি (ফুটবল), ঢাকা-৫ আসনের বাসদের (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী শাহিনুর আক্তার সুমি (কাঁচি) ও ঢাকা-৭ আসনে জেএসডির প্রার্থী শাহানা সেলিম (তারা)।
নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ না করা প্রার্থীরা হলেন ঢাকা-১০ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বহ্নি বেপারী (লাঙ্গল), ঢাকা-১৮ আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী সাবিনা জাবেদ (আম), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সালমা আক্তার ও ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী ফাতেমা আক্তার মুনিয়া (আপেল)।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ১৭। এর মধ্যে নারী প্রার্থী আছেন ৮৫ জন। দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬৬ নারী।
নারী প্রার্থী কম থাকার বিষয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীনের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বড় দুই দলের মধ্যে বিএনপি মাত্র ১০ জন আর জামায়াত কাউকে মনোনয়ন দেয়নি। এর কারণ কী, সেটা দলগুলো ভালো জানবে। তবে আমি মনে করি, দলগুলোর কাছে সেটা জানতে চাওয়া উচিত। দুটি দলই নারীদের অবমূল্যায়ন করেছে।’
বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করা
ঢাকা-৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাসদের (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী সীমা দত্ত। কাঁচি প্রতীকে নির্বাচন করা এই প্রার্থী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি নির্বাচিত হলে বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নেবেন। এ ছাড়া ঢাকা-৭ আসনকে পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
পরিবর্তনের ১০ অঙ্গীকার
ঢাকা-১০ আসনে পরিবর্তনের জন্য ১০টি অঙ্গীকার করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী নাসরীন সুলতানা (ঈগল)। তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে অপরাধপ্রবণ এলাকায় নতুন সিসিটিভি ও স্ট্রিট লাইট স্থাপন, ইজারা দেওয়া মাঠগুলো ইজারামুক্ত করার আগপর্যন্ত সপ্তাহে অন্তত দুই দিন শিশু ও কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত রেখে নিরাপদ খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ, সরকারি হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও সেবা নিশ্চিত করা এবং বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে কঠোর মনিটরিং সেল চালু।
বেবি ডায়াপার জোন স্থাপন
ঢাকা-৮ আসনে ব্রেস্টফিডিং ও বেবি ডায়াপার চেঞ্জ জোন স্থাপন ও মানুষের পুষ্টি নিশ্চিতে এই এলাকায় ফলের গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রার্থী মেঘনা আলম। গণ অধিকার পরিষদ থেকে তিনি ট্রাক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেঘনা আলম তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে ২২টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সেবা নেই, বিল নেই
ঢাকা–৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করছেন এই প্রার্থী। নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি তাঁর এলাকার গ্যাস–সংকট সমাধানে ‘সেবা নেই, বিল নেই’ নীতির জন্য জাতীয় সংসদে আইন প্রস্তাবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ছাড়া তাসনিম জারা ইশতেহারে লিখেছেন, নির্বাচিত হলে মানুষের সমস্যা সমাধানে ‘ওপেন ড্যাশবোর্ড’ চালু করবেন তিনি। যে ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে সমস্যার সমাধান কত দূর এগিয়েছে।
এ ছাড়া তাসনিম জারা সরকারি হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন, নারীদের জন্য সাশ্রয়ী চিকিৎসা, মশা নিধন, স্কুলে ভর্তিতে এমপির সুপারিশ বন্ধ করা, স্কুলে আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন, এআই শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, নারীবান্ধব পরিবহন, তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
‘বাসযোগ্য ঢাকা–১৪’
ঢাকা–১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম (ধানের শীষ) ভোটারদের বাসযোগ্য ঢাকা–১৪ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ‘ঢাকা–১৪ মেরামতে অংশ নিন, ধানের শীষে ভোট দিন’ স্লোগানে সানজিদা ইসলাম ওয়ার্ড ও ইউনিয়নভিত্তিক আলাদা আলাদা নির্বাচনী ইশতেহারও দিয়েছেন।
‘কথা কম কাজ বেশি’
‘কথা কম কাজ বেশি, বাংলাদেশকে ভালোবাসি’ স্লোগান নিয়ে জনগণের মর্যাদাপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তাকে কেন্দ্রে রেখে ১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার।
অর্থবহ পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি
ঢাকা–৭ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী শাহানা সেলিম (তারা) নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি জয় পেলে পুরান ঢাকাকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলবেন।
ঢাকা–৫ আসনে বাসদের (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী শাহিনুর আক্তার সুমি (কাঁচি) প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে তিন গ্যাস–সংকট নিরসন করবেন। এ ছাড়া দব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, শ্রমজীবীদের জন্য রেশনিং, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত, জলাবদ্ধতা নিরসন, কর্মজীবী নারীদের সন্তানের জন্য ‘ডে–কেয়ার’ সেন্টার চালুসহ ভোটারদের ৯টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ঢাকা–৯ আসনে গণফোরাম প্রার্থী হয়েছেন নাজমা আক্তার। উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে এই প্রার্থী ভোটারদের অর্থবহ পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি ইশতিহারে লিখেছেন, ‘শুধু দল পরিবর্তন নয়, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন চাই।’
ঢাকা–১১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কহিনূর আক্তার বীথি নির্বাচন করছেন ফুটবল প্রতীকে। নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি জলাবদ্ধাতা নিরসন, গ্যাস–সংকট দূর করা, রাস্তা সংস্কার, মাদক নির্মূল, সন্ত্রাসী ও চাদাঁবাজি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।