‘আমাদের যেসব মৌলিক অধিকার ভোগ করার কথা, তা থেকে বঞ্চিত করা হলে আমরা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হব’ উল্লেখ করে কামাল হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘রাষ্ট্রের মালিক নাগরিক। তাদের সেই ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা হলে দেশে গণতন্ত্র থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘লক্ষ করছি, ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্য কিছু কিছু দিক থেকে চেষ্টা হয়। এটি যেন না হয়। এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন ও সক্রিয় থাকতে হবে।’

নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. কামাল বলেন, টাকাপয়সা ও অন্য রকম প্রভাব ব্যবহার করে জনগণকে যদি ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, নির্বাচনপদ্ধতি নষ্ট করা হয়, তখন দেশের জন্য একটি ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। এটি যেন না হয়, সে ব্যাপারে সচেতন হয়ে লেগে থাকতে হবে।

এই সংবিধানবিশেষজ্ঞ বলেন, ‘যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, জনগণ সচেতনভাবে অংশগ্রহণ করে নিজে ভোট দেয়, নিজের প্রতিবেশীও ভোট দেয়—এ ব্যাপারে নিষ্ক্রিয় থাকলে হবে না। সক্রিয়ভাবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেগে থাকতে হবে। নির্বাচনের সময় ও নির্বাচনের আগে থেকেও পরিবেশ রক্ষা করতে হবে; যাতে নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে যারা আমাদের অধিকার ও সংবিধান রক্ষা করবে—সে ধরনের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। তারা যেন সক্রিয়ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে।’

বিষয়টির গুরুত্ব না বুঝলে অপূরণীয় ক্ষতির কথা উল্লেখ করে কামাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের লেগে থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণসমাজকে এ ব্যাপারে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাতে হবে। তারা যেন মৌলিক অধিকারের কর্মী ও রক্ষী হিসেবে মাঠে থাকে। পত্রপত্রিকায় যাঁরা সাংবাদিক আছেন, তাঁরা যেন এ ব্যাপারে লেখালেখি করেন।’

এদিকে সরকারকে উদ্দেশ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট্রি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘সবার সঙ্গে আলাপে বসুন। সংঘাত নয়, সংলাপ করুন। সংলাপ ছাড়া কোনো গতি নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিশ্চিত করছি, সুষ্ঠু নির্বাচনে আপনি যদি জেতেন, আপনাকে (প্রধানমন্ত্রী) অভিনন্দন জানাব। যদি হেরে যান, নিশ্চিত করব আপনার জীবন, জীবনযাত্রা ও রাজনৈতিক কার্যক্রম। সুষ্ঠু নির্বাচনই দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি ঠিক করবে।’

জাতির সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না, সে প্রশ্ন রেখে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘জনগণ সব ক্ষমতার মালিক। মালিকানা প্রয়োগের অনেক জায়গা আছে। তবে মূল জায়গা হলো, আমরা নিজের ইচ্ছেমতো ভোট দিয়ে যাকে পছন্দ করব, সে সরকারি দল হবে। আমাদের এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে আগামী নির্বাচনে কাদের সরকারি দল হিসেবে দেখতে চাই, সেটি করতে পারব কি না—আমরা কাছে এটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন মনে হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি করতে পারলে আমাদের ক্ষমতা থাকবে, আর না করতে পারলে আমাদের ক্ষমতা থাকবে না। এটা নিয়ে তর্কবিতর্ক, আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে।’

শাহদীন মালিক বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ রায় বের হওয়ার আগেই পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায়ে স্পষ্টতই আরও দুটি নির্বাচন এই ব্যবস্থায় হতে পারে, বলা হয়েছিল। স্পষ্টত, পঞ্চদশ সংশোধনীতে রায়ের সুষ্ঠু প্রতিফলন হয়নি। চিন্তাভাবনা করেই বলছি, পঞ্চদশ সংশোধনী জাতির প্রতি প্রতারণা।’ তিনি আরও বলেন, ‘১১টি নির্বাচনের মধ্যে ৭টি হয়েছে দলীয় সরকারের অধীন। এই ৭ নির্বাচনে যে দল সরকারে ছিল, সে দলই জয়লাভ করেছে। যেমন জয়লাভ করেছে ২০১৮ সালে, ২০১৪ সালে। এ ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি হলে আমি তো ভোট দিতে যাব না।’

গণফোরামের সভাপতি পরিষদের সদস্য মোশতাক আহমেদের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক মো. আবু সাঈদ খান, গণফোরামের সভাপতি পরিষদের সদস্য মফিজুল ইসলাম খান কামাল, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (বীর প্রতীক) ও সেলিম আকবর এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বক্তব্য দেন।