সচিবালয়ে বিএনপির বৈঠকের সমালোচনায় জামায়াত নেতা

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন জামায়াতে ইসলামীর সহাকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ
ছবি: জামায়াতের ফেসবুক পেজের লাইভ ভিডিও থেকে

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির দলীয় বৈঠক করার ঘটনার সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহাকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, সচিবালয় হলো নির্বাহী জায়গা। এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ফোরামের বৈঠকের রেকর্ড তাঁদের জানা নেই।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থীর মনোনয়পত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন হামিদুর রহমান আযাদ।

আরও পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ দুপুরে সচিবালয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সচিবালয়ে দলীয় বৈঠকের সমালোচনা করে জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘এই কাজটি উনারা (বিএনপি) করছেন। তাহলে ওনারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখেন? আমার দলের মতো হলে গণতন্ত্র, নাহলে স্বৈরতন্ত্র!’

রাষ্ট্রপতি পদে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী দেওয়ার কারণ তুলে করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনো নির্বাচন হোক, তা তাঁরা চান না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি পদে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তাঁর সম্পর্কে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি জাতীয়ভাবে সমালোচনা–বিতর্কের ঊর্ধ্বে।

আরও পড়ুন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গণতন্ত্রচর্চার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বাধা সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে সংসদ সদস্যরা (এমপি) ভোট দিতে পারবেন না। বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গোপন ব্যালটে ভোটের বিধান চালু করতে পারত।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সবাই মিলে যখন একমত (জুলাই সনদ) হয়েছি একটা অধ্যাদেশ জারি করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র উচ্চ পর্যায়ে থেকে চর্চা শুরু করার সুযোগ ছিল। কিন্তু তারা (বিএনপি) করলেন না।’

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধিত হতো, আর এমপিরা স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট দিতে পারতেন বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন বলে তাঁরা মনে করেন। কারণ, সংসদ সদস্যদের কাছে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থী।

আরও পড়ুন

সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অবিকলভাবে বহাল আছে, ততক্ষণ সে অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোট দিতে হবে।

নির্বাচনে কমিশনে (ইসি) অতিরিক্ত সচিব পদে সামসুল আলমের নিয়োগ পাওয়ার বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘তিনি (সামসুল) বিএনপির ছিলেন। পরে তাঁকে ইসির অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইসি ভবনে তিনি এখনো আছেন। ফলে ইসিকে বিএনপি তাদের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করার চেষ্টা চালাচ্ছে, এই অভিযোগ সত্য।’