নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসংবলিত স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে যুক্ত করার বিধান স্বাক্ষরকারী ভোটারদের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে বলে অভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। এই বিধান বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তাঁরা এ কথা বলেন। ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে আয়োজিত এ সভায় মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রায় ৩০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নেন। তাঁরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন। আপিলে দেখা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। আবার অনেককে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। কারও শুনানি এখনো হয়নি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ–৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনাত কাইয়ূম। তাঁর আপিলের শুনানি কাল সোমবার।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর যুক্ত করার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, নির্বাচন হয় গোপন ব্যালটে। অথচ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এই ১ শতাংশ ভোটারের সব তথ্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় এই ১ শতাংশ স্বাক্ষর যাচাই করে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে। সে ক্ষেত্রে কোনো স্বাক্ষরদাতা কোনো ধরনের চাপের মুখে বা ভয় পেয়ে পরে স্বাক্ষর করেননি এমনটি বললে সেই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তাঁর স্বতন্ত্র প্রার্থিতা রুখে দিতে পুলিশ এক স্বাক্ষরকারীর বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ হয়েছে ২৯ ডিসেম্বর। ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সেগুলো যাচাই–বাছাই করেছে নির্বাচন কমিশন। যাচাই–বাছাইয়ে যেসব প্রার্থী বাদ পড়েছিলেন, তাঁরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। ১০ জানুয়ারি থেকে আপিলের শুনানি চলছে।
হাসনাত কাইয়ূম বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান হয়েছে রাষ্ট্রের সংস্কার করার জন্য। নির্বাচন কমিশনের সংস্কার না হলে, সংস্কারের কোনো অর্থ থাকে না। তিনি বলেন, তাঁরা চেয়েছেন নির্বাচন কমিশন যাতে বিতর্কিত না হয়। কিন্তু যে ধরনের নির্বাচন করার জন্য শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে, সেটার চেয়েও খারাপ নির্বাচন করার জন্য ইসি উদ্যোগ নিচ্ছে।
সভায় ‘বাংলাদেশ স্বতন্ত্র প্রার্থী ঐক্য পরিষদ’–এর চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরপরই ১ শতাংশ ভোটার স্বাক্ষর বাতিলের দাবিতে তাঁরা আন্দোলন শুরু করেন। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে চিঠিও দিয়েছেন তাঁরা। তফসিল ঘোষণার আগে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় নির্বাচন কমিশনেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে কাজ হয়নি।
সভায় দেশের বেশ কয়েকটি নির্বাচনী আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। এ সময় নির্বাচনী এলাকায় তাঁদের নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেন তাঁরা। নড়াইল–১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সুকেশ সাহা বলেন, তাঁর পক্ষে স্বাক্ষর করা ভোটারদের পুলিশ দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
ঝালকাঠি–২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ রাজ্জাক আলী বলেন, নির্বাচনে প্রার্থিতা করার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁকে না পেয়ে তাঁর স্ত্রীকে অজ্ঞাতনামা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, যে ১ শতাংশ ভোটার প্রকাশ্যে তাঁর পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
গোপালগঞ্জ–২ আসনে মোট ৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। তাঁদের একজন উৎপল বিশ্বাস অভিযোগ করেন, এর ফলে ৬ শতাংশ ভোটারের গোপনীয়তা বিঘ্নিত হয়েছে। এই কালো আইনের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তিনিসহ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে মামলা করেছেন বলে জানান।
সভায় জামালপুর–৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ ইব্রাহীম, রাজশাহী–৩ আসনের শেখ হাবিবা, খুলনা–৪ আসনের এস এম আজমল হোসন প্রমুখ নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।