জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে ঢাকা-৯ আসনে কিশোর গ্যাং ও মাদক নির্মূলকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেছেন, ‘কিশোর গ্যাং একটি নীরব আগুনের মতো সমাজকে পুড়িয়ে দিচ্ছে। এই ছেলেগুলো জন্মসূত্রে অপরাধী নয়, এরা অবহেলার শিকার। এ সমস্যা সমাধানে আইনের যথাযথ ব্যবহার, খেলার মাঠ, প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগ দিয়ে ঢাকা–৯ কে কিশোর গ্যাং মুক্ত করা হবে।’
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুর মাঠে এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন হাবিবুর রশিদ।
সমাবেশ শুরুর আগে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ও সবুজবাগ থানা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক গোলাম মহিউদ্দিন ফারুকসহ দলটির ১৫ নেতা–কর্মী বিএনপিতে যোগ দেন। এ সময় তাঁদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান হাবিবুর রশিদ।
সমাবেশে বিএনপির প্রার্থী বলেন, আর কত দিন ঢাকা-৯ আসনের মানুষ শিক্ষার অভাব ও সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত থাকবে—এ প্রশ্ন এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, ‘আর কত দিন আমাদের যুবসমাজ মাদকের নেশায় ধ্বংস হবে? বর্ষা এলেই কি ঢাকা-৯ ডুবে থাকবে? সবুজবাগ, খিলগাঁও ও মুগদার রাস্তাগুলো কি প্রতি বর্ষায় পানির নিচে চলে যাবে?’
জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে হাবিবুর রশিদ বলেন, এটি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার ফল। ক্ষমতায় গেলে ঢাকা-৯ আসনের জন্য একটি সমন্বিত ‘ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান’ বাস্তবায়ন, খাল উদ্ধার এবং ওয়ার্ডভিত্তিক স্থায়ী পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ‘এই (ধানের শীষ) প্রতীক বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অধিকার ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি। আমি হাত জোড় করে নয়, মাথা উঁচু করে আহ্বান জানাচ্ছি ভোটের দিন আপনারা ভোটের শক্তি নিয়ে ধানের শীষকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করুন। এমন জয় দিন, যাতে কেউ আর ভোট চুরি করার সাহস না পায়। এমন জয় চাই, যাতে সংসদে ঢাকা-৯ গর্জে উঠতে পারে।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ইউনুস মৃধার সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রউফ ইউসুফ, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ইসমাইল তালুকদার খোকন প্রমুখ।