এতে চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষজন উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির মিডিয়া সেল এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্যসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয়, ‘মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে বিনা ভোটের ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদি করার জন্য গোয়েন্দা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে গোপন গুম-কেন্দ্র ও টর্চার সেল বানানো হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই গোপন কেন্দ্রগুলোকে আয়না ঘর নামে অভিহিত করা হয়েছে। গণতন্ত্রকামী কিংবা ভিন্ন দল মতের মানুষকে বছরের পর বছর এই আয়না ঘরে গুম করে রাখা হচ্ছে। এই আয়না ঘর আর আওয়ামী লীগ এখন মিলেমিশে একাকার’।

বিএনপির চলমান আন্দোলন কর্মসূচি ভোটাধিকার আন্দোলন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন উল্লেখ করে প্রবন্ধে বলা হয়, ‘ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি চায় একটি নিরপেক্ষ সরকার। এই সরকারের অধীনে এককভাবে সরকার গঠনের সুযোগ পেলেও বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে না। জাতীয় নির্বাচনে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিজয়ী অথবা বিজিত সকল রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন ও দেশের সংসদীয় কাঠামোয় গুণগত পরিবর্তন আনতে চায় বিএনপি।’

প্রবন্ধে বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী ভোটারেরা ভোট দিয়ে সংসদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে ৩০০ জনকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করে থাকেন। কিন্তু বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার এমন অনেক জ্ঞানী–গুণী ব্যক্তিত্ব আছেন যাদের রাজনৈতিক দলগুলো থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ খুবই সীমিত। আবার বর্তমান কাঠামোয় অনেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ দেখান না। এতে বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা, সম্প্রদায় ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অনেক মেধাবী ব্যক্তি রাষ্ট্র বিনির্মাণের ভূমিকা থেকে বঞ্চিত হন। এ কারণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন, যাতে রাজনীতি সচেতন মেধাবী মানুষগুলোর চিন্তা ও কর্ম রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণের কাজে লাগানো যায়। বাংলাদেশে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের রাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি সংসদীয় রাজনীতিতে ভারসাম্য আসবে।

রাজনৈতিক হানাহানি কিংবা প্রতিহিংসা বিএনপি দেখতে চায় না উল্লেখ করে প্রবন্ধের শেষের দিকে বর্তমান অন্ধকার সময় থেকে বের করে দেশকে আলোর পথে নিয়ে যেতে আগামী দিনে কেমন বাংলাদেশ চাই সে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয় দেশবাসীকে।

ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্য গঠন প্রক্রিয়া, বিএনপি প্রস্তাবিত পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের রূপরেখা কেমন হওয়া উচিত, উচ্চকক্ষ কী নামে পরিচিত হবে, সদস্য সংখ্যা কত হবে এ নিয়ে দেশবাসীর সুচিন্তিত মতামত চায় দলটি।

মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দেশে অনেক ছোট–বড় দল আছে। সেসব দলে অনেক মেধাবী আছেন। বিএনপি যদি রাষ্ট্রক্ষমতায় যায় তাহলে তাদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। কারণ গত ১৫ বছরে রাষ্ট্রের যে ক্ষতি হয়েছে, বিএনপি মনে করে তা মেরামত বিএনপির একার করা সমীচীন হবে না। তবে বিএনপি চাইলে করতে পারে কিন্তু করবে না। কারণ বিএনপি বহুদলে বিশ্বাস করে। এ জন্য জাতীয় সরকারের ধারণা নিয়ে আমরা এগোচ্ছি।’

বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য মীর হেলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক হায়াত হোসেন, সাউদার্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি সিদ্দিক আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নসরুল কদির, বিএমএ চট্টগ্রামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ জামিল চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবকে উপাধ্যক্ষ আবদুল আলীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এনামুল হক, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, আবদুস সাত্তার, এস এম বদরুল আনোয়ার, সাংবাদিক জাহিদুল করিম ও শাহনেওয়াজ প্রমুখ।