নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের প্রচার করবেন; কিন্তু পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না। নির্বাচনী কাজের দায়িত্বে যাঁরা থাকবেন, তাঁরা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে একই দিন গণভোটও হবে। সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরও এই প্রচারে আছে। সরকার বা সরকারি কর্মকর্তারা একটি পক্ষে প্রচার চালাতে পারেন কি না, সে প্রশ্ন সামনে এসেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলামের কাছে গণভোটের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অবস্থান কী, তা জানতে চান একজন সাংবাদিক। জবাবে তিনি বলেন, ‘গণভোটের বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনী কাজের দায়িত্বে যাঁরা থাকবেন, তাঁরা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি নির্বাচনের দায়িত্বে রিটার্নিং অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার এবং অন্যান্য যাঁরা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁরা গণভোটের প্রচার করবেন, বাট পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সরকার যে বিষয়টা বলেছে সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তিনি মন্তব্য করতে চান না। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা যখনই রিটার্নিং কর্মকর্তা হয়েছেন তখন তিনি কোনো পক্ষের নন। কোনো রিটার্নিং কর্মকর্তা, কোনো সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন না।
নির্বাচনের পরিবেশের বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, গণমাধ্যমের খবর এবং মাঠ পরিদর্শন করে ইসি যতটুকু দেখতে পাচ্ছে, তাতে ইসি মনে করে, অতীতের অনেক নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচনের মাঠে পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার।
আরেক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ইসি কোনো শঙ্কা প্রকাশ করছে না। রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রতিনিয়ত ইসির সঙ্গে বৈঠক করছেন। তাঁদের পর্যবেক্ষণ জানাচ্ছেন। ইসি সে অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিটি অভিযোগ ইসি মনোযোগ দিয়ে শুনেছে উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, সমাধানের জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দলগুলোর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন মানেই তো তাদের (দলগুলোর) এজেন্ডা। তাদের ইশতেহার নিয়ে কথা বলবে। এটার পক্ষ -প্রতিপক্ষ সেটাকে ওভারকাম করার চেষ্টা করবে বক্তৃতায়–বিবৃতিতে, একজন আরেকজনের পজিটিভ-নেগেটিভ দিক তুলে ধরবেন, কিছু আক্রমণাত্মক কথা হবে। এর মধ্য থেকে জনগণ বিচার–বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবে যে কাকে ভোট দেবে।’